মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগের শঙ্কা। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে অনেক এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চার দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গতকাল শনিবার সকাল থেকে মনু ও ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। তবে বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলা সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। প্রায় দুই হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাবে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক এলাকায় এখনো কাদা ও ময়লা পানিতে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে দূষিত পানিই ব্যবহার করছেন। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, সর্দি-জ্বর ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া, মতিন ও ছাদিক মিয়া বলেন, ‘দুই দিন ঘরবাড়ি পানির নিচে ছিল। শনিবার রাতে পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু এখন পরিবারের অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’

জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।’

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য খাদ্যসামগ্রী, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি এলাকায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।’