মৌলভীবাজারে কমছে নদ-নদীর পানি। এতে উন্নতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। তবে পানি কমার সঙ্গে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত চারদিন ধরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় জেলায়।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু হলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হতে থাকে। তবে বন্যা পানি কমে আসলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত এলাকায়। বিশেষ করে পানিবাহিত নানা রোগের দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, টানা ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু ও ধলাই নদী ভেঙে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও সদর উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়। বন্যায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ডুবে যায়। ফলে অনেক পরিবারে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। এসব এলাকায় বন্যা কমার পর নতুন করে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগের দেখা। বিশেষ করে ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি, সর্দি-জ্বর ও এলার্জি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সকল বয়সী মানুষেরা।

রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিনে জেলার বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েন। আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে গতকাল শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু হলে বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগের দেখা দেয়। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটের কারণে ডায়রিয়া, ডিসেন্ট্রি, সর্দি-জ্বর ও এলার্জি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষেরা।

আরও পড়ুন

মৌলভীবাজার / পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও ছিল না প্রস্তুতি, পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বন্যায় আক্রন্ত জুয়েল মিয়া, মতিন, ছাদিক মিয়া বলেন, দুই দিন পানির নিচে থাকার পর গতকাল রাতে পানি কমেছে। তবে পানি কমার পর নতুন করে রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষেরা। আমাদের পরিবারের কারো জ্বর উঠেছে আবার কারো ড্রাইরিয়া হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, বন্যা কবলিত এলকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। একই সাথে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত করা আছে। যাতে সবাই পানিবাহিত রোগোর চিকিৎসা নিতে পারেন।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যার্তদের জন্য ইতোমধ্যে খাবার, চাল ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত প্রতিটি এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

মাহিদুল ইসলাম/এনএইচআর/এএসএম