ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর আবার নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি।
দলটি সংশ্লিষ্ট দুদেশকে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপি মনে করে, এই যুদ্ধ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য দেশগুলোর অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে এমন উদ্বেগ জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সভায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্য, মাদক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ওমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির সহায়তা কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইরান
রোববার (১২ জুলাই) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস (ভার্চুয়ালি), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সভায় দলের মহাসচিব আগের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে সদস্যদের অবহিত করেন।
বিএনপি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিত, চার্চের ফাদার ও বৌদ্ধ মন্দিরের সেবায়েতদের ভাতা প্রদানের কর্মসূচির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ইশতেহারে উল্লেখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
সভায় বিরোধী দলের জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়। এ বিষয়ে দলের অবস্থান জনগণের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রক্রিয়া জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। দলীয় ইউনিটগুলোকে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় কার্যকরী কমিটির সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মহাসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
আমি মরে গেলে ইরানের ওপর এত বোমা ফেলবে যা তারা আগে দেখেনি: ট্রাম্প
সভায় ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর এবং ওই দুদেশের সঙ্গে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি সম্পর্কেও সভায় অবহিত করা হয়। দুদেশের সঙ্গে পারস্পরিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তাদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়। সভার মতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সফরের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সফল সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়।
সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
দেশে মাদক সমস্যার বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বিএনপির সব ইউনিট ও অঙ্গসংগঠনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সবশেষ দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
কেএইচ/এমকেআর








