পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উড়িষ্যা ও  তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। 

আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, নিম্নচাপটি আরো পশ্চিশ-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পটুয়াখালীর পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছধরা নৌকা ও ট্রলার সমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, রবিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চল সমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব নদী বন্দর সমূহকে ২ নম্বর নৌ হুশিয়ার সংকেত দেখি যেতে বলা হয়েছে। দেশের অন্য নদী বন্দর সমূহে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে গত তিনদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি থেকে মাঝারি এবং মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ৬২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। 

টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও খেটে খাওয়া মানুষ। উপকূলে আকাশ এখনো ঘন মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। নদ-নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্ষুব্ধ রয়েছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। 

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, “মৌসুমী নিম্মচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হওয়া বয়ে যেতে পারে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে এবং ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।”