রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ময়লার ভাগাড় থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ী পৌরসভার বিনোদপুর এলাকার খাদ্যগুদামের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নবজাতকটির বাবা পাবনার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ হাকিমপুর এলাকার বাসিন্দা মাসুদুর রহমান। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক।
মাসুদুর রহমান জানান, গ্রামের বাড়ি থেকে পাবনা জেলা শহরের দূরত্ব বেশি হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির পরামর্শে তাঁর স্ত্রী শাকিলা ইসলাম প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য প্রায় এক মাস আগে রাজবাড়ী শহরের বেড়াডাঙ্গা মহল্লায় তাঁর মামাশ্বশুর চুন্নু মৃধার বাড়িতে আসেন। মাসুদুর গত মঙ্গলবার রাজবাড়ীতে আসেন। পরদিন বুধবার রাত ১২টার দিকে রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী মৃত সন্তান প্রসব করেন।
মাসুদুর আরও বলেন, মৃত নবজাতককে পাবনায় নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তাঁর মামাশ্বশুর চুন্নু মৃধা দাফনের দায়িত্ব নেন। এ সময় দাফনের খরচ বাবদ কিছু টাকাও দেওয়া হয়। পরে তাঁকে সঙ্গে না নিয়ে গভীর রাতে দাফনের কথা বলে নবজাতকের মরদেহটি ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়।
মাসুদুর রহমানের ভাষ্য, ‘এটি আমার প্রথম সন্তান। ওই সময় আমার মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই মামাশ্বশুর যা বলেছেন, তা–ই মেনে নিয়েছি। এখন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পাবনার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হবে। এ ঘটনায় আপাতত কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে এক কিশোর ময়লার ভাগাড়ে বর্জ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পায়। ব্যাগটি খুলে ভেতরে কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে সে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানায়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবার থেকে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে তাঁদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।








