ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ দালাল চক্রের ১৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-১৪ সদর কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মো. আতিকুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ রফিক আলী (৪৫), ইমরান বাদশা (৩০), আসাদ (৪৭), আহসান উল্লাহ (৩৭), মনির (৪৫), টুটুল আমিন (৪০), আনিস হোসেন (৪০), মো. রানা (৩০), মো. সোহাগ মিয়া (৩১), মনির হোসেন (৩৭), শিলা আক্তার (৫১), জীবন হোসেন (২৮) ও আক্তার হোসেন (৩১)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রবেশপথে অবস্থান করে রোগী ও স্বজনদের টার্গেট করতেন। পরে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়া এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁদের প্রতারণার কারণে সাধারণ রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, ছেলের পায়ে তারকাঁটা লাগার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে দালালের মাধ্যমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে অপারেশনের জন্য ৩৯ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালি করে আসছে। তারা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে সরকারি হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যায়।

র‌্যাব জানিয়েছে, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় দালাল চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও পরিচালনা করা হবে।