ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পরিদর্শনে এসে প্রায় ৭০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন। তবে বৈঠক শেষে তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত রোগী বা তাঁদের স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলেননি।
গতকাল মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জারি করা সফরসূচিতে আজ বুধবার সকাল পৌনে ১০টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিতি ও পরিদর্শনের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর আজ বেলা ১১টা ১০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছায়।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: ‘মাইনষে পাড়াইয়্যা আমার পুতটারে মাইরা হালাইছে’হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলামসহ চিকিৎসকনেতারা প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনিক ভবনে পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যান। অসুস্থতার কারণে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে ময়মনসিংহ সদর আসনের (ময়মনসিংহ–৪) সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ, হাসপাতাল প্রশাসন ও চিকিৎসকনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী বের হয়ে নিজের গাড়িতে ওঠেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে কীভাবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আরও ভালো করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে উত্তর দেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি পদদলিত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘পাড়া লেগে (পদদলিত হয়ে) কেউ মারা যায়নি। তারা আগুন–আতঙ্কে সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিল। তারা মারা গেছে, অভিভাবকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা ওই দিন ক্লিয়ার করে দিয়েছি। যে নিউজটা আসছে ছয়জন মারা গেছে, এর মধ্যে এখনো একজন চিকিৎসাধীন আছে।’
একপর্যায়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ছয়জনের মৃত্যুর খবর আমরা মিথ্যা প্রমাণিত করেছি। যারা মারা গেছে, তাদের দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু। অন্য দুজন মারা গেছে আগুন–আতঙ্কে। নো পদদলিত মৃত্যু। পদদলিতও না, অগ্নিদগ্ধও না।’
পদদলিত হয়ে কয়েকজন মারা গেছেন, পরিবারগুলোর এমন দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা তদন্ত করার পর যেটা বের হবে, তখন প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারব। দোয়া করেন যেন সবকিছু ভালো থাকে।’
আবু ওয়াহাব আকন্দ, সংসদ সদস্য পাড়া লেগে (পদদলিত হয়ে) কেউ মারা যায়নি। তারা আগুন–আতঙ্কে সেন্সলেস হয়ে গিয়েছিল। তারা মারা গেছে, অভিভাবকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা ওই দিন ক্লিয়ার করে দিয়েছি। যে নিউজটা আসছে ছয়জন মারা গেছে, এর মধ্যে এখনো একজন চিকিৎসাধীন আছে।হাসপাতালে চার গুণ রোগীর চাপ এবং বিভিন্ন মেশিন নষ্ট থাকার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটার সলিউশন এক দিনে হবে না। আমরা ট্রাই করছি, ফিউচারে কী হবে, এগুলো নিয়ে কথাবার্তা বলেছি। এরপর একটি বড় সভা করা হবে। ইঞ্জিনিয়ারদের বলেছি, এটা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কী কী প্ল্যান করা দরকার, তাঁরা করুক। তখন বলতে পারব। এখন আমি নিজেই জানি না, বলব কীভাবে।’
গত সোমবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলা ভবনের ১১ নম্বর লিফটে আগুন লাগে। এতে লিফটের বাইরের আবরণ পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগী ও স্বজনদের অনেকে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন তা নাকচ করেছে।
প্রতিমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, তিনি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিলসমালোচনার পর তদন্তে নতুন কমিটি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগের কমিটিতে লিফট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুই প্রকৌশলীকে সদস্য করা হয়েছিল। এ নিয়ে সমালোচনার পর আজ নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে নতুন কমিটির প্রধান ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে আরও দুই চিকিৎসক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (দক্ষিণ) ও ফায়ার সার্ভিসের এক সহকারী পরিচালককে সদস্য করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল সকালে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিকেও তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাসকে দ্বিতীয় ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাজেদুর রহমানকে তৃতীয় সদস্য করা হয়েছিল।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের





