বুটের সুতো বেঁধে সবে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু তিনি মাঠে নামার আগেই গোল হজম করল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে ২–০ গোলে পিছিয়ে থাকা নবাগত জর্ডান বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় এক গোল শোধ করেন মুসা তামারি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে আর্জেন্টিনা। প্রথম ২০ মিনিটে প্রায় ৮২ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের পায়েই। ৬ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের পাস থেকে গোল করেছিলেন লো সেলসো। কিন্তু আলভারেস অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়। ১২ মিনিটে কর্নার থেকে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এই ম্যাচে কিছুটা ভিন্ন কৌশলে দল সাজিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। এসেকিয়েল পালাসিওসকে আজ রাইট-ব্যাক পজিশনে খেলানো হয়। জর্ডান পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খেলায় কোনো চাপ ছাড়াই আক্রমণে সাহায্য করেন পালাসিওস।

ম্যাচের ১৯ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে লো সেলসোকে ফাউল করায় ফ্রি-কিক পায় দল। সেখান থেকে বাঁ পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করেন লো সেলসো নিজেই। শট নেওয়ার সময় জর্ডানের গোলরক্ষক ভুল করে কিছুটা বাম দিকে সরে গিয়েছিলেন, ফলে বল সরাসরি জালে জড়ায়।

আর্জেন্টিনা আক্রমণের চাপ ধরে রেখে ম্যাচের ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায়। এর আগে ২৮ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মার্কোস সেনেসি হেড করতে গেলে জর্ডানের আল-রাশদানের পা তার মুখে আঘাত করে। রেফারি ভিএআর (VAR) দেখে আর্জেন্টিনার পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট-কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেস। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে জর্ডান। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে আবারও লো সেলসোর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৫৩ মিনিটে মার্তিনেসের একটি দূরপাল্লার শট জর্ডানের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পরই মেসি মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে গ্যালারিতে হইচই পড়ে যায়। ঠিক তখনই, ৫৫ মিনিটে গোল করে বসে জর্ডান। ডানপ্রান্ত থেকে হাদ্দাদের নিচু ক্রস পেয়ে দারুণ এক শটে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান বদলি খেলোয়াড় মুসা আল-তামারি।