ভোজিনিয়ার গল্পটা রূপকথার মতোই। এবারের বিশ্বকাপের আগে তাঁকে সেভাবে কেউ চিনতই না। এখন তাঁর ইনস্টাগ্রামে এক মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার, দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া কেপ ভার্দেকেও নকআউটে তুলেছেন ভোজিনিয়াই।

স্পেন, উরুগুয়ে আর সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করা দলটির শেষ ৩২–এ প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যা ছিল একরকম অবিশ্বাস্য। এই পুরো ঘটনা স্বপ্নের মতো ভোজিনিয়ার কাছেও।

সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর ভোজিনিয়া বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য দারুণ একটা ঘটনা হবে। আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির বিপক্ষে মাঠে নামা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই স্বপ্ন।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করায় ভোজিনিয়ার কৃতিত্বই বেশি। এরপর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়তে থাকে তাঁর গল্প। ঠিক সময়ে টাকা জোগাড় করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি তাঁর মা। পরে তাঁর যাওয়ার ব্যবস্থা হয়, মাঠে বসে ছেলেকে বিশ্বকাপ খেলতেও দেখছেন।

মায়ের সামনেই গতকাল সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে শেষ ৩২–এ জায়গা নিশ্চিত করেছেন ভোজিনিয়া। পরে বলেছেন, ‘আমরা কেউই সম্ভবত কখনো এমন কিছু কল্পনা করিনি। কিন্তু আমরা জানতাম, দল হিসেবে আমরা ভালো। বিশ্বকাপে আসার সময় হয়তো অনেকেই ভেবেছিল, আমরা একটি ম্যাচও জিততে পারব না। কিন্তু আমাদের দলটা দুর্দান্ত, দলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার মতো খেলোয়াড় আছে।’

পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। বাছাইপর্বে ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে তারা জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপে। ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেশটিই এখন বিশ্বকাপে সেরা ৩২–এ।

ভোজিনিয়ার কণ্ঠে সেই উচ্ছ্বাস, ‘আমরা দেখাতে পেরেছি, দেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা কতটা গভীর। আমরা শুধু খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করছি না, বিশ্বের সব কেপ ভার্দিয়ান মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা হয়তো ছোট একটি দেশ, কিন্তু আমাদের হৃদয় বড়। আর আমরা লড়াই করতে জানি।’

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে কেপ ভার্দে কোচ—‘কিছুই অসম্ভব নয়’