বিশ্বকাপ মানে শুধু দলগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়, ব্যক্তিগত মহিমা প্রতিষ্ঠারও সবচেয়ে বড় মঞ্চ। সেই মঞ্চে এবারও সবচেয়ে আলোচিত নাম লিওনেল মেসি। একের পর এক গোল। রেকর্ডের পর রেকর্ড। আর্জেন্টাইন মহাতারকা আবারও ব্যালন ডি’অরের আলোচনার কেন্দ্রে। আর্জেন্টিনা যদি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে এবং সেই অভিযানের নায়ক হন মেসি, তাহলে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসাবে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হবে তার। ইতিহাস অবশ্য এও বলছে যে, বিশ্বকাপ জয় ব্যালন ডি’অরের পথে বড় সুবিধা এনে দিলেও তা কখনোই নিশ্চয়তা দেয় না।

গ্রুপপর্বে ছয় গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপ এখন নকআউট পর্বে। এখান থেকে একটি ভুলই যে কোনো দলের বিদায় নিশ্চিত করে দিতে পারে। শিরোপা জিততে হলে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় পাওয়ার বিকল্প নেই। ১৯৯৫ সালের আগে ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সে সময় একই বছরে বিশ্বকাপ ও ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন মাত্র তিনজন-ববি চার্লটন (১৯৬৬), পাওলো রোসি (১৯৮২) এবং লোথার ম্যাথিউস (১৯৯০)। ১৯৯৫ সালে পুরস্কারটি বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত হওয়ার পর তালিকায় যুক্ত হন জিনেদিন জিদান (১৯৯৮), রোনালদো (২০০২) এবং ফাবিও কানাভারো (২০০৬)। এরপর ইতিহাস সবসময় একই পথ অনুসরণ করেনি। ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে বাদ দিয়ে বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়ে পুরস্কারটি জিতে নেন লিওনেল মেসি। ২০১৪ সালে মেসি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিলেন, জার্মানির মানুয়েল নুয়ার ছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম নায়ক। কিন্তু ব্যালন ডি’অর যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হাতে। ২০১৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যালন ডি’অর জেতেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ। অবশেষে ২০২২ বিশ্বকাপে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়কই ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে সেরার স্বীকৃতি পান। কাতারে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর ২০২৩ সালে অষ্টম ব্যালন ডি’অর জেতেন মেসি। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ জয় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে শক্তিশালী ভিত তৈরি করে। শুধু বিশ্বকাপ জিতলেই ব্যালন ডি’অর নিশ্চিত হয় না। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার লড়াইটা একপেশে হবে না। উসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকারাও নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অরের দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।