ম্যাচের ঘড়িতে তখন ৬০ মিনিট। জর্ডানের জমাট রক্ষণের সামনে যখন আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিল, ঠিক তখনই সাইডলাইনের পাশে এসে দাঁড়ালেন তিনি। ডাগআউট থেকে লিওনেল মেসির মাঠে প্রবেশের সাথে সাথেই যেন গ্যালারিতে প্রাণ ফিরে পেল হাজারো আকাশী-সাদা সমর্থক। মাঠে নেমে মাত্র ৩০ মিনিটের জাদুকরী ছোঁয়ায় ম্যাচের পুরো চিত্র বদলে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে এক ঐতিহাসিক জয় এনে দিলেন এই মহাতারকা।
বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ৫০তম জয়ের মাইলফলক ছোঁয়ার রাতে মেসিকে প্রথমার্ধে বিশ্রামে রেখেছিলেন কোচ। কিন্তু জর্ডানের রক্ষণ ভাঙতে আলবিসেলেস্তেরা যখন হিমশিম খাচ্ছিল, তখন দ্বিতীয়ার্ধের ১৫তম মিনিটে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে মেসিকে মাঠে নামানো হয়। মাঠে নেমেই চিরচেনা সেই জাদুকর ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন।
আক্রমণভাগের 'প্রাণভোমরা' হয়ে উঠতে তাঁর জন্য মাত্র কয়েকটা মিনিটই যথেষ্ট ছিল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার কিছু আগে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মেসির নেওয়া সেই ট্রেডমার্ক বাঁ পায়ের নিখুঁত শট যখন জর্ডানের জাল কাঁপাল, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে শুধুই 'মেসি, মেসি' গর্জন। বদলি হিসেবে নেমেও জাদুকরী পাসিং, ড্রিবলিং আর একক নৈপুণ্যে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণব্যুহ একাই ভেঙে চুরমার করে দেন। মাত্র ৩০ মিনিটের উপস্থিতিতেই ম্যাচটি পুরোপুরি নিজের করে নেন ফুটবল ইশ্বর।
ব্রাজিল ও জার্মানির পর বিশ্বের মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে ৫০টি ম্যাচ জেতার অনন্য কীর্তি গড়ল আর্জেন্টিনা। তবে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের রাতটি ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে মূলত মেসির ওই রাজকীয় ৩০ মিনিটের ক্যামিও আর মাঠ কাঁপানো আলোর জন্য। অবধারিতভাবেই ম্যাচ শেষে জর্ডানের বিপক্ষে এই জয়ের নায়ক বনে যান বদলি নামা লিওনেল মেসিই।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ী ৫টি দেশ
অবস্থান দেশ মোট ম্যাচ জয়
১ ব্রাজিল ১১৭ ৭৮
২ জার্মানি ১১৫ ৭০
৩ আর্জেন্টিনা ৯১ ৫০
৪ ইতালি ৮৩ ৪৫
৫ ফ্রান্স ৭৬ ৪৩
আরআই/এসকেডি/জেআইএম








