বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের মুকুট এবার শুরুতেই হাতবদল হয়েছে। তবে রেকর্ড হাতছাড়া হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সম্মান আর মুগ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ দেখালেন মিরোস্লাভ ক্লোসা। দীর্ঘদিন নিজের দখলে থাকা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড লিওনেল মেসি ভেঙে দেওয়ার পর কোনো আক্ষেপ নেই ক্লোসার। বরং আর্জেন্টাইন মহাতারকার এই কীর্তিতে গর্বিত জার্মান কিংবদন্তি। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতা ক্লোসার নামের পাশে ছিল ১৬ গোল। ওই বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন মেসি। দীর্ঘ এক যুগ ধরে ক্লোসা ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। গ্রুপপর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসি ছাড়িয়ে যান ক্লোসাকে। বিশ্বকাপে তার গোল এখন ২১। ক্লোসাকে ছাড়িয়ে গেছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তারও গোল এখন ১৯টি। তার কাছে রেকর্ড হারানোর পরও মেসির প্রশংসায় ক্লোসা ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মেসি এক অবিশ্বাস্য বিস্ময়কর প্রতিভা। আমার কাছে সে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন!’ মেসির সঙ্গে নিজের আবেগঘন কথোপকথনের গল্পও জানিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সি ক্লোসা। ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিওতে আর্জেন্টিনার বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনির সতীর্থ ছিলেন তিনি। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে মেসির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। ক্লোসা বলেন, ‘স্কালোনি আমার সতীর্থ ছিল। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। মেসি আমার বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার পর স্কালোনি আমাদের মধ্যে ফোনালাপের ব্যবস্থা করে দেয়। মুহূর্তটি সত্যিই আবেগঘন ছিল।’ শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, মেসি তাকে একটি বিশেষ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। ক্লোসা জানান, ‘মেসি আমাকে বলেছে, সে নিজের সই করা একটি জার্সি পাঠাবে।’ ফুটবল মাঠেও একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছেন দুজন। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্লোসার জার্মানির প্রতিপক্ষ ছিল মেসির আর্জেন্টিনা। প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে তাদের সম্পর্ক সব সময় ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধার। বর্তমানে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এফসি নুরেমবার্গের কোচ ক্লোসা বলেন, ‘মেসির সঙ্গে মাঠে কয়েকবার দেখা হয়েছে, যা দারুণ ও সৌহার্দপূর্ণ ছিল। এবারই প্রথম ফুটবলের বাইরে তার সঙ্গে এত দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ হলো।’ রেকর্ডের হাতবদল, কিন্তু সম্মান কমেনি। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে মেসি যেমন ইতিহাস লিখেছেন, তেমনি ক্লোসার উদার স্বীকৃতি ফুটবলের সৌন্দর্যকে নতুন করে তুলে ধরেছে।








