১৭ বছর পর জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের মেট্রন সামছুন নাহার হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এ মামলায় কলেজের তৎকালীন দারোয়ান শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও আড়াই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তসরুজ্জামান বুধবার বিকালে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম জয়পুরহাট পৌর শহরের পশ্চিম দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা। মামলার বিবরণে জানা যায়, কলেজের মেট্রন সামছুন নাহারকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন শহিদুল। এতে রাজি না হওয়ায় ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে নিহতের স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে লাশ কলেজের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার ৪ দিন পর নিহতের ভাই ফেরদৌস আলম লুলু জয়পুরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেফতারের পর শহিদুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৮ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে সামছুন নাহারের গলিত লাশ ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব চপল জানান, মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।