চুয়াডাঙ্গার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটির অন্তত ৮০টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হলেও সেগুলো সময়মতো প্রতিস্থাপন বা রিফিল করা হয়নি। আবার নতুন বসানো কিছু সিলিন্ডারেও উৎপাদন ও মেয়াদের স্পষ্ট তথ্য নেই। এতে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনে প্রায় ৩০০টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৮০টির মেয়াদ গত ২০ মে শেষ হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলো আর রিফিল বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বিষয়টি সামনে আসার পর হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে নতুন ৩০টি অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার স্থাপন করা হয়। তবে এসব সিলিন্ডারের গায়ে উৎপাদনের তারিখ বা মেয়াদোত্তীর্ণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে সিলিন্ডারগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ, রিফিল ও স্থাপনের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেবল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘নতুন সরবরাহ করা সিলিন্ডারগুলোর নিচের অংশে মেয়াদের তথ্য রয়েছে। এগুলো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের তৈরি।’

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, নিচের অংশে শুধু ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। উৎপাদনের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ স্পষ্টভাবে লেখা নেই। ফলে সিলিন্ডারগুলো কত দিন ব্যবহারযোগ্য, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমরা হাসপাতালে আসি চিকিৎসা নিতে। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই যদি কার্যকর না থাকে, তাহলে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা কোথায়?’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডারে অবশ্যই মেয়াদ থাকতে হবে। তারিখবিহীন সিলিন্ডারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে প্রায় ১২০টি সিলিন্ডার রিফিল করা হয়েছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে রিফিল করা হবে। নতুন সিলিন্ডার স্থাপনের কাজ গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২৪ জুন সদর হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। তখন কিছু সিলিন্ডারের মেয়াদ ২৭ জুন শেষ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া কয়েকটি সিলিন্ডারে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য পাওয়া যায়নি। সেগুলো দ্রুত রিফিল বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
হুসাইন মালিক/কেএইচকে/জেআইএম








