নার্সারি থেকে শুরু করে উচ্চতর ডিগ্রি— পুরো পথটাই যেন এক রূপকথা। তবে এই রূপকথার পেছনের নায়ক কোনো রাজপুত্র নন, একজন সাধারণ অটোচালক। গত ৩৫ বছর ধরে যিনি রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অটো চালাচ্ছেন। আর সেই অটোর চাকার ঘূর্ণিতেই বদলে গেছে তার দুই মেয়ের ভাগ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মেয়ের এই আবেগঘন স্বীকারোক্তি এখন কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। ইনস্টাগ্রামের ‘গ্রোয়িং উইথ অর্থা’ পেজে শেয়ার করা ভিডিওটি এখন নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।
উল্টো পথের যাত্রী এক বাবা
আমাদের সমাজে চারপাশের মানুষ যখন মেয়ের বিয়ের জন্য হন্যে হয়ে টাকা জমায়, এই বাবা তখন হেঁটেছেন উল্টো পথে। সমাজের চেনা নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি পাই পাই করে টাকা জমিয়েছেন মেয়ের পড়াশোনার জন্য।
আরও পড়ুন
শিশুর কোলে গন্ধগোকুল-পেছনে সজারু: ফেসবুকে ঝড় তোলা ভিডিওর আসল সত্য
তরুণী বলেন, ‘চারপাশের সবাই যখন মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা জমাচ্ছিল, আমার বাবা তখন জমিয়েছেন আমাদের পড়াশোনার জন্য।’
তবে তরুণীর চোখে তার বাবার দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার শুধু এই শিক্ষা নয়, বরং ডানা মেলে উড়ে বেড়ানোর ‘স্বাধীনতা’।
মেয়ে বলে কখনো বৈষম্য নয়
ভারতের ওই তরুণী এখন থাকেন বেঙ্গালুরুতে, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু যখনই তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হন, বাবা তার চিরচেনা অটো নিয়ে হাজির হন। পরম যত্নে মেয়েকে নামিয়ে দিয়ে আসেন বাস স্টপেজে।
আরও পড়ুন
বিপদে অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করায় ভাড়া নিলেন না অটোচালক!
তরুণী জানান, বাবা কখনো তাদের দুই বোনকে বুঝতে দেননি, মেয়ে বলে তারা কোনো কাজ করতে পারবেন না। তিনি সবসময় মেয়েদের ওপর ভরসা রাখতেন। একা ভ্রমণ করা, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনের মুখোমুখি হতে শিখিয়েছেন তিনি।
View this post on Instagram
ঘুরে গেছে ভাগ্যের চাকা
দুই বোনই এখন নিজেদের ক্যারিয়ারে সুপ্রতিষ্ঠিত। করোনা মহামারির কঠিন সময়ে তারা বাবা-মায়ের জন্য একটি খামার তৈরি করে দেন। বাবাও সেই খামারকে ভালোবেসে আগলে রেখেছেন।
তবে বাবার লড়াই এখানেই শেষ নয়। মেয়ে মা হওয়ার পর যখন ক্যারিয়ার আর সন্তান সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখনো ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন এই বাবা। মেয়েকে বললেন, ‘চাকরি ছাড়ার কোনো দরকার নেই, আমরা আছি।’
আরও পড়ুন
‘শান্তি লাগছে’ / বেতন পেয়েই মাকে প্রথমবার প্লেনে চড়ালেন ছেলে!
কর্মজীবী মেয়ের পাশে বাবা
মেয়ের চাকরি বাঁচাতে বাবা নিজের স্ত্রীকে পাঠিয়েছেন বেঙ্গালুরুতে, নাতনিকে দেখভাল করার জন্য। আর এদিকে গ্রামের বাড়িতে একা হাতে সব সামলাচ্ছেন এই সুপারহিরো। তিনি একাধারে ঘরের রান্না করেন, ঘরদোর পরিষ্কার করেন, খামারের যত্ন নেন, আবার দিনের বেলা অটো চালিয়ে সন্ধ্যায় এসে বসেন নিজের মুদি দোকানে।
ভিডিওর শেষে তরুণী এক চরম সত্য অকপটে স্বীকার করেছেন। মা-বাবার দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার টাকা-পয়সা বা সম্পত্তি নয়। সন্তানকে স্বাধীন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রতিটা পদক্ষেপে তার পেছনে বটবৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকাই হলো আসল উপহার। বাবার এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি মাথা নত করেছেন লাখো নেটিজেন।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/








