বিষধর কোবরার কামড়ে আহত স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এক নারী। টেলিভিশনে দেখা একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনি স্বামীর ক্ষতস্থান থেকে মুখ দিয়ে বিষ টেনে বের করার চেষ্টা করেন। পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ঘটনাটি চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশের।

চীনের জিমু নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনানের ইউয়ানইয়াং কাউন্টিতে এক কৃষক মাঠে কাজ করার সময় একটি কোবরা সাপ তার আঙুলে কামড় দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার আঙুল ফুলে যায় এবং তিনি মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা অনুভব করেন।

এ সময় আতঙ্কিত স্ত্রী টেলিভিশনে দেখা পদ্ধতি অনুসরণ করে কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই স্বামীর ক্ষতস্থান থেকে মুখ দিয়ে বিষ টেনে বের করার চেষ্টা করেন। পরে আহত কৃষককে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারীর মুখ, জিহ্বা, মুখমণ্ডল ও হাত-পায়ে অবশ ভাব দেখা দেয়। পরদিন তিনি প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকেও হাসপাতালে নিয়ে যান।

হংহে প্রিফেকচার থার্ড পিপলস হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, স্থানীয় প্রজাতির কোবরার বিষে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে দুজনকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

চিকিৎসকেরা বলেন, সাপের কামড়ে মুখ দিয়ে বিষ টেনে বের করার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মুখের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালির মাধ্যমে বিষ দ্রুত উদ্ধারকারীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া সাপের কামড়ের ক্ষত সাধারণত খুব ছোট হওয়ায় এভাবে বিষ বের করা প্রায় অসম্ভব।

তারা আরও জানান, ক্ষতস্থান কেটে রক্ত বের করা, আগুন দিয়ে পোড়ানো বা বরফ লাগানোর মতো পদ্ধতিও বিপজ্জনক। এতে সংক্রমণ বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।

সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে যত কম সম্ভব নড়াচড়া করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি সাপের রং, দাগ বা মাথার আকৃতি মনে রাখা কিংবা সম্ভব হলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে ছবি তুলে রাখলে সঠিক অ্যান্টিভেনম নির্বাচন সহজ হয়।

চীনে সাপের কামড়ের ঘটনা প্রায়ই আলোচনায় আসে। গত মে মাসে গুয়াংডং প্রদেশে এক স্কুলছাত্র সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলেও শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, আরও এক-দুই ঘণ্টা দেরি হলে তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারত।

ইউনানের সাম্প্রতিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, টিভি নাটকে যা দেখানো হয়, তা সব সময় বাস্তবে নিরাপদ নয়।আরেকজন মন্তব্য করেন, এতে অন্তত বোঝা যায়, স্ত্রী স্বামীকে খুব ভালোবাসেন।

সূত্র: সাউথ চায়না মনিং পোস্ট

এমএসএম