টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক নারী নির্মাণ শ্রমিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর খুনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মির্জাপুর থানা পুলিশ রবিউল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার তাকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। মির্জাপুর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাগর তালুকদার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, জানু নামের রাজমিস্ত্রির এক সর্দারের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া চলছিল। একদিন ওই নারী ও জানুর শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি রবিউল দেখে ফেলেন। রবিউল ও ওই নারী এক সঙ্গে ঢালাই কাজে হেলপার হিসাবে কাজ করতেন। এরমধ্যে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে ওঠে। রবিউল মাঝে মধ্যে ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি রবিউলের স্ত্রী ভালোভাবে না নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা লেগেই থাকত। কুরবানির ঈদের আগের দিন রবিউলের স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর তিনি আর স্বামীর বাড়িতে ফেরেননি। এই কারণে রবিউল ওই নারীর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং সুযোগ খুঁজতে থাকেন। মঙ্গলবার রাতে রবিউল ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাকে পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়ায় একটি বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে রবিউল ওই নারীর বুকের ওপর চরে বসে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধর্ষণ করে। এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর পাড়ে ঝোপের মধ্যে লাশ ফেলে দেয় বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করে। মঙ্গলবার রাতে ও পরদিন বুধবার ওই নারী বাড়িতে না ফেরায় তার মেয়ে রবিউলকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ রবিউলকে আটক করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, ওই নারীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে তার স্ত্রী চলে যায়। এই রাগে রবিউল কৌশলে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ওই নারীকে লৌহজং নদীতে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই নারীর লাশ সুরতহাল শেষে পুলিশ উদ্ধার করে।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইসলাম জানান, রবিউল ওই নারীকে হত্যার পর ধর্ষণের কথা আমলী আদালতের বিচারক সাগর তালুকদারের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকার করেছে।








