মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো মিশরের কায়রোতে অবস্থিত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় (Al-Azhar University)। প্রায় হাজার বছরের পুরনো এই বিদ্যাপীঠে ইসলামিক স্টাডিজ ও শরিয়াহর পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও ব্যবসায় শিক্ষার মতো বৈচিত্র্যময় বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
এটি কেবল একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক চেতনার এক ঐতিহাসিক বাতিঘর। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্কলারশিপ ও নিজস্ব অর্থায়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান।
২০২২ সালে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের থাই শিক্ষার্থীদের স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠান/ ছবি: মিশরে থাই দূতাবাসের ওয়েবসাইট
আবেদনের যোগ্যতা ও শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত দুটি প্রধান অনুষদে বা ট্র্যাকে পড়াশোনা করা যায়। প্রথমটি হলো ধর্মতাত্ত্বিক অনুষদ -এর অধীনে শরিয়াহ, উসুলুদ্দীন, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ইসলামিক দাওয়াহ’র মতো বিষয়গুলো রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো আধুনিক অনুষদ -এর অধীনে চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, বিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন ও মানবিক অনুষদের বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন, অর্থাৎ বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা সরাসরি ইসলামিক অনুষদগুলোতে আবেদনের যোগ্য। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডের সনদকে সরাসরি স্বীকৃতি দেয়।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা সাধারণ বা জেনারেল বিভাগের শিক্ষার্থীরাও আল-আজহারে আবেদন করতে পারেন। তবে সায়েন্টিফিক বা মডার্ন অনুষদে পড়ার জন্য বিজ্ঞান বিভাগে ভালো ফল থাকা আবশ্যক। সাধারণত জিপিএ ৫.০০ বা ন্যূনতম ৮০ শতাংশ নম্বর থাকলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়, তবে ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫ বা তদুর্ধ্ব শিক্ষার্থীরাও সাধারণ আবেদনের সুযোগ পান।
স্কলারশিপ
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধারী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আল-আজহার স্কলারশিপ’ (Al-Azhar Scholarship) দিয়ে থাকে। এই বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পান।
এই স্কলারশিপের সুযোগ-সুবিধাসমূহ অত্যন্ত চমৎকার। এর অধীনে শিক্ষার্থীদের কোনো টিউশন ফি বা ভর্তি ফি দিতে হয় না। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ডরমিটরিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসন বা থাকার সুবিধা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হোস্টেলের ক্যাফেটেরিয়াতে দৈনিক তিন বেলা বিনামূল্যে খাবার ব্যবস্থাও থাকে। কায়রোতে আসার পর প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের পকেট মানি বা উপবৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি চিকিৎসা বিমা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া: কীভাবে শুরু করবেন?
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের জন্য মূলত দুটি অনুমোদিত মাধ্যম রয়েছে। বাংলাদেশে সরাসরি কোনো অনলাইন পোর্টাল বা প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে না গিয়ে এই দুটি অফিশিয়াল চ্যানেলে যোগাযোগ করতে হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (IFB)-এর মাধ্যমে আবেদন করা।
মিশর সরকার প্রতি বছর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অফিশিয়াল স্কলারশিপের সার্কুলার দেয়। সাধারণত প্রতি বছর জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে (islamicfoundation.gov.bd) এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সরাসরি বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি ঢাকার গুলশানে অবস্থিত মিশরীয় দূতাবাসের (Embassy of Egypt, Dhaka) কালচারাল উইংয়ের মাধ্যমেও সরাসরি আবেদন জমা নেওয়া হয়। অনেক সময় দূতাবাস নিজস্ব ভাইভা বা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে মিশরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠায়। বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা কায়রোতে পাঠানো হয়। সেখানে আল-আজহারের কেন্দ্রীয় বোর্ড শিক্ষার্থীদের ইন্টারভিউ ও আরবি ভাষার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে ভর্তির অনুমতিপত্র ইস্যু করে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্টস (চেকলিস্ট)
আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের কিছু জরুরি নথিপত্র নিখুঁতভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে এসএসসি/দাখিল ও এইচএসসি/আলিম পরীক্ষার মূল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট। সকল শিক্ষাগত নথিপত্র প্রথমে ইংরেজি বা আরবি ভাষায় অনুবাদ করতে হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার মিশরীয় দূতাবাস থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সত্যায়ন করাতে হবে।
এর বাইরে ন্যূনতম ১ বছরের মেয়াদসহ মূল পাসপোর্ট, ইংরেজি বা আরবিতে অনূদিত জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি আবেদনের সাথে যুক্ত করতে হবে। একই সাথে হেপাটাইটিস-বি, সি, এইচআইভি ও যক্ষ্মা মুক্ত থাকার একটি সরকারি মেডিকেল রিপোর্ট বা স্বাস্থ্য সনদপত্র এবং ল্যাব প্রিন্ট করা পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড) অবশ্যই প্রয়োজন হবে।
আরবি ভাষা শিক্ষা ও ভাষা কোর্স
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার প্রধান মাধ্যম হলো আরবি (বিজ্ঞান অনুষদের কিছু বিষয় ছাড়া)। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থীরই আরবি ভাষায় আন্তর্জাতিক মানের সাবলীলতা থাকে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আল-আজহারের একটি চমৎকার নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে যাকে ‘মারকাজুল লুগাহ’ (Language Center) বলা হয়।
মূল অনুষদে ক্লাস শুরু করার আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে আল-আজহারের নিজস্ব ভাষা ইনস্টিটিউটে আরবি ভাষা কোর্সে ভর্তি হতে হয়। এখানে শিক্ষার্থীর মেধার ওপর ভিত্তি করে লেভেল নির্ধারণ করা হয়। ১ থেকে ২ বছরের এই ভাষা কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই কেবল মূল ডিগ্রিতে পড়াশোনা শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়।
নিজস্ব অর্থায়নে পড়ার সুযোগ
যদি কোনো শিক্ষার্থী সরকারি স্কলারশিপ না পান, তবে তিনি নিজস্ব খরচেও আল-আজহারে পড়তে যেতে পারেন। মিশরে অন্যান্য ইউরোপীয় বা পশ্চিমা দেশের তুলনায় পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ অনেক কম। নিজ অর্থায়নে পড়ার জন্য শিক্ষার্থীকে সরাসরি ঢাকায় মিশরীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। কায়রোতে পৌঁছানোর পর প্রথম দিকে হোস্টেল সুবিধা না মিললে ব্যক্তিগতভাবে বাসা ভাড়া করে থাকতে হয়, যার খরচ প্রতি মাসে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ মার্কিন ডলারের মতো হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১২ হাজার থেকে সাড়ে ১৮ হাজার টাকা।
পরিশেষে শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি পরামর্শ হলো, জুনের শুরু থেকেই নিয়মিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং মিশরীয় দূতাবাসের নোটিশ বোর্ডের দিকে নজর রাখুন। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নামে বাংলাদেশে অনেক ভুয়া দালাল বা এজেন্সি প্রতারণা চক্র গড়ে তুলেছে। মনে রাখবেন, আল-আজহারের অফিশিয়াল ভর্তি কেবল সরকারি মাধ্যম ও দূতাবাসের পক্ষেই সম্ভব। কোনো এজেন্সিকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হবেন না।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কেন এত বিখ্যাত?
বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়
ফাতেমীয় খলিফা আল-মুইজের আদেশে ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে (প্রায় ১ হাজার ৫৪ বছর আগে) জামে আজহার বা আজহার মসজিদ হিসেবে এটি যাত্রা শুরু করে। মরক্কোর কারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এটিই বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সুন্নি ইসলামের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ
আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম বা গ্র্যান্ড শেখকে বিশ্বব্যাপী সুন্নি মুসলমানদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রধান ধর্মীয় আইনি নির্দেশক বা পণ্ডিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর দেওয়া ফতোয়া বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের মেলবন্ধন
প্রাচীনকাল থেকেই এখানে কুরআন, ফিকহ (ইসলামি আইন) ও হাদিসের পাশাপাশি দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, জোতির্বিদ্যা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের চর্চা হতো। ১৯৬১ সালে আধুনিক সংস্কারের মাধ্যমে এখানে পুরোদমে চিকিৎসা, প্রকৌশল ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ চালু করা হয়।
ঐতিহাসিক বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু
১৭৯৮ সালে নেপোলিয়ন যখন মিশর আক্রমণ করেন, তখন এই আল-আজহারের শিক্ষক ও ছাত্ররাই ফরাসি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রথম গণ-প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
আল-আজহার থেকে পড়া বিশ্বের কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব
শত শত বছর ধরে আল-আজহার বিশ্বকে অসংখ্য রাষ্ট্রনায়ক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী এবং কিংবদন্তি ইসলামি চিন্তাবিদ উপহার দিয়েছে। তাদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন হলেন:
রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব
আব্দুর রহমান ওয়াহিদ (Gus Dur): ইন্দোনেশিয়ার সাবেক ও ৪র্থ রাষ্ট্রপতি, যিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম নেতা ছিলেন।
বুরহানউদ্দিন রব্বানী: আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময়কার শীর্ষস্থানীয় মুজাহিদ নেতা।
মামুন আব্দুল গাইয়ুম: মালদ্বীপের সাবেক দীর্ঘকালীন এবং ৩য় রাষ্ট্রপতি ও প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ।
আলিকো ডাঙ্গোতে: নাইজেরিয়ার বিশ্বখ্যাত বিজনেস মোগল ও আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তিনি আল-আজহারে বিজনেস স্টাডিজ নিয়ে পড়েছেন।
ঐতিহাসিক শিক্ষাবিদ ও সংস্কারক
ইবনে খালদুন (Ibn Khaldun): আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাসতত্ত্ব এবং অর্থনীতির জনক হিসেবে স্বীকৃত এই মহান মুসলিম দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ আল-আজহারে শিক্ষকতা ও গবেষণা করেছেন।
ইমাম ইবনে হাজার আল-আসকালানি: ইসলামি ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত হাদিস বিশারদদের একজন, যিনি বুখারি শরিফের বিশ্বখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’ রচনা করেছেন।
সিবত আল-মারদিনি ও আব্দুল আজিজ আল-ওয়াফাই: ১৫ শতকের এই দুজন বিখ্যাত আরব গণিতবিদ, পদার্থবিদ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী আল-আজহারের শিক্ষার্থী ও পরবর্তী সময়ে শিক্ষক ছিলেন। তারা মূলত ঘড়ি তৈরির বিজ্ঞান (Horology) ও জোতির্বিদ্যার আধুনিক যন্ত্রপাতির বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।
আল-হাসান ইবনুল হাইথাম: আধুনিক অপটিক্স বা আলোকবিজ্ঞানের জনক। এই মহান বিজ্ঞানী আল-আজহারে অবস্থান করে তার বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন।
শেখ জামালউদ্দিন আফগানি ও মুহাম্মদ আবদুহ: ১৯ শতকের বিখ্যাত ইসলামি আধুনিকতাবাদী ও প্যান-ইসলামিজম আন্দোলনের প্রধান দুই পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
কবি-সাহিত্যিক
তাহা হুসেইন : তাকে ‘আরবি সাহিত্যের ডিন’ (Dean of Arabic Literature) বলা হয়। অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি আধুনিক আরবি সাহিত্যের অন্যতম সেরা লেখক, ঔপন্যাসিক ও সমালোচক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পান। আল-আজহার থেকে শিক্ষা নেওয়ার পর তিনি মিশরের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
আবু আল-কাসিম আল-শাবি: তিউনিসিয়ার জাতীয় কবি। তার লেখা কবিতার বিখ্যাত দুটি লাইন বর্তমানে তিউনিসিয়ার জাতীয় সঙ্গীতে ব্যবহার করা হয়। তিনি আল-আজহারের শরিয়াহ অনুষদ থেকে ডিগ্রি নিয়েছিলেন।
সমকালীন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার
ড. ইউসুফ আল-কারাদাভী: আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলারদের সংগঠন 'ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস’র সাবেক সভাপতি ও আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা ফিকহ বিশেষজ্ঞ।
মুহাম্মদ মেতওয়াল্লি আল-শারাভি: মিশরের সাবেক ধর্মমন্ত্রী এবং বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী আল-কুরআনের মুফাসসির (ব্যাখ্যাকারী)।
ড. আহমেদ এল-তাইয়ব: আল-আজহারের বর্তমান গ্র্যান্ড ইমাম, যিনি বিশ্বব্যাপী আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ কায়েদ হিসেবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব: বর্তমানেও বাংলাদেশের বহু কৃতি শিক্ষার্থী আল-আজহারে শীর্ষ স্থান অধিকার করছেন। তাদের মধ্যে মিজানুর রহমান আল-আজহারীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
আবার ২০২৪ সালে আল-আজহারের স্নাতক মেধা তালিকার শীর্ষ ৬ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জনই ছিলেন বাংলাদেশি! এর পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কায়রো সফরকালে এই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশেষ স্মারক ভাষণ দেন।
সূত্র: আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এসএএইচ








