ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মধ্যরাতে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণের সময় এই ঘটনা ঘটে। 

বারুইপুর পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলরাত রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তদন্তের স্বার্থে প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গাড়ি থেকে নামানোর পর অভিযুক্ত হঠাৎ পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে ‍গুলি চালায় এবং পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাকে প্রথম সতর্ক করে। কিন্তু সে না থামায় পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

গত রবিবার (৫ জুলাই) সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১১ বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনার দিনই স্থানীয় জনতা প্রভাসকে আটকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল। এর পর থেকে পুলিশি হেফাজতেই ছিলেন প্রভাস।

নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উত্তরপ্রদেশ ও আসামের আদলে এই এনকাউন্টারের ঘটনা রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার বদলের আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “রেকর্ড করে রাখুন বিরোধী দলনেতার কথা, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাবে না, সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ (খতম) করব। যোগী আদিত্যনাথ ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথে সরকার চলবে, কথা দিয়ে গেলাম।” 

ঘটনাচক্রে, রাজ্যে ক্ষমতার বদলের পর বারুইপুরের শিশু ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় ঠিক তেমনই এক ছবি দেখল পশ্চিমবঙ্গ। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনকাউন্টার করা হলো মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই এনকাউন্টারের ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বারুইপুরকাণ্ডে সবার প্রথমে গ্রেপ্তার হয়েছিল প্রভাস মণ্ডল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো কয়েকজন ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রভাস মণ্ডলের বয়ানে বারবার অসঙ্গতি পাওয়া যায়। পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে, ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ওই শিশুকে তুলে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সংজ্ঞাহীন অবস্থাতেই শিশুটিকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলা হয়েছিল।

মঙ্গলবার রাতে এই মামলার চতুর্থ পলাতক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল চার অভিযুক্তের সবাই এখন আইনের আওতায়, যার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মৃত।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে বারুইপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। রেল ও সড়ক অবরোধের পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যুও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্য সরকার। বর্তমানে বারুইপুর এলাকা থমথমে কিন্তু নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রয়েছে।