গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্কে এক বছর আগে উদ্ধার করে আনা হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পাঞ্জা লড়ছে। সম্প্রতি হাতিশালায় অন্য একটি হাতির আক্রমণে দুই পা ভেঙে যায় তার। হাতিটির অবস্থা এখন সংকটাপন্ন।

‘রাজু বাহাদুর’ আহত হওয়ার পর থেকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশি-বিদেশি চিকিৎসক দল নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছে তাকে সুস্থ করে তুলতে। তবে অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় হাতিটির বাঁচা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুয়ে শুয়ে খাবার গ্রহণ করছে ‘রাজু বাহাদুর’, নিয়মিত চলছে চিকিৎসা কার্যক্রমও।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট হাতিটি জব্দ করে। আতিকুর রহমান নামক এক ব্যক্তি ওই এলাকায় হাতিটির মাধ্যমে চাঁদাবাজি করছিলেন। সে সময় হাতিটির বয়স ছিল ৯ বছর, বর্তমানে তার বয়স ১০ বছরের বেশি। উদ্ধারের পর থেকে হাতিটিকে সাফারি পার্কের হাতিশালায় নির্দিষ্ট একটি স্থানে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সম্প্রতি অন্য একটি হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে তার পা ভেঙে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজু বাহাদুর’ প্রাপ্ত বয়স্ক একটি পুরুষ হাতি। গত ২৪ মে পার্কের হাতিশালায় অন্য একটি হাতির আক্রমণের শিকার হলে মাটিতে পড়ে গিয়ে সামনের দুটি পা ভেঙে যায় তার। ঘটনার কয়েক দিন পর হাতিটিকে ক্রেনের সাহায্যে নিরাপদস্থানে বালির ওপর স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসক আনা হয়েছে। এ ছাড়া মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হাতি ‘রাজু বাহাদুর’ শুয়ে শুয়ে সামান্য পরিমাণে খাবার খেতে পারলেও তার অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাণীরা একই স্থানে বা ক্যাপটিভে বসবাস করা অবস্থায় সংঘর্ষ বা ঝগড়ায় জড়ানো প্রাকৃতিক ব্যাপার। সব প্রাণীই কোনো না কোনো সময় সংঘর্ষে জড়ায়। তবে ‘রাজু বাহাদুর’ একটু বেশিই আহত হয়ে পড়েছে।’

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী বনসংরক্ষক) মো. তারেক রহমান বলেন, ‘হাতিশালায় হাতিদের একটির সঙ্গে আরেকটি মাঝে মাঝেই সংঘর্ষে জড়ায়। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা থাকে। হাতিশালার অন্য একটি হাতি ‘রাজু বাহাদুর’কে ধাক্কা দিলে মাটিতে পড়ে গিয়ে তার পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হচ্ছে। হাতিটি শিকলে বাঁধা ছিল। এটি এখন দাঁড়াতে পারে না। আমরা নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি ‘রাজু বাহাদুর’ দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও হাতিশালায় ঘুরে বেড়াবে।