- রাজশাহীতে রাখতে অনড় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু
- প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জেলাবাসীর
- বগুড়ায় নিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের অবস্থানও জোরালো
- নেসকোর মতামত চেয়েছে মন্ত্রণালয়
নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের আলোচনা ঘিরে কয়েক মাস ধরে চলা বিতর্ক এবার নতুন রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে। ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় কোনোভাবেই রাজশাহী থেকে সরানো যাবে না। প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তার এই ঘোষণার পর রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ঘিরে রাজশাহীতে জনমত আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, নেসকো এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় রক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি রাজশাহীর মর্যাদা, প্রশাসনিক গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
‘গত ১৬ জুলাই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে রাজশাহী থেকে প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। চিঠির খবর প্রকাশ হওয়ার পর রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ধারণা জন্ম নেয় যে, বিষয়টি এখনো নীরবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে’
২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব পালন করে আসছে নেসকো। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধান কার্যালয়টি বগুড়ায় স্থানান্তরের আলোচনা শুরু হয়। বগুড়ার শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টি সামনে এনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। তার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
সেসময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজশাহীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন করে এবং রাজনৈতিক নেতারাও প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান। স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম তখন জানান, আপাতত প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ থেকে সরে এসে তিনি বগুড়ায় একটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
‘রাজশাহীর মতো একটি প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ বিভাগীয় শহর থেকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য এবং জেলার জনগণের প্রতি সুস্পষ্ট বৈষম্যের শামিল। কোনো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এই অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থের পরিপন্থি’
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর আবারও নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। গত ১৬ জুলাই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে রাজশাহী থেকে প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তরের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। চিঠির খবর প্রকাশ হওয়ার পর রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ধারণা জন্ম নেয় যে, বিষয়টি এখনো নীরবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বাগযুদ্ধ
নেসকো ইস্যুতে সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, “রাজশাহীর মানুষ সারাদিন চিৎকার করে। অথচ পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিদ্যুৎ সার্ভিস। আপনাদের এত ব্যথা লাগে কেন? ব্যথা লাগাবেন না ভাই। হোক না বগুড়ায় হেড অফিস, আপনারা জোনাল অফিস নেন।”
একই বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘যতই সমালোচনা করেন, পার্লামেন্টে বলেন বা বাইরে বলেন, আমিসহ বগুড়ার সাতজন এমপি বগুড়ার উন্নয়নের ব্যাপারে একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই।’
প্রতিমন্ত্রীর এসব মন্তব্য রাজশাহীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী মহলে প্রশ্ন ওঠে, উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় অন্য জেলায় সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী? তার এই বক্তব্য রাজশাহীতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারও মানুষ এটিকে রাজশাহীর প্রতি ‘অবমূল্যায়ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
‘রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এই শহর থেকে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় সরিয়ে বগুড়ায় নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বগুড়ার একজন প্রতিমন্ত্রী ও দু-একজন সংসদ সদস্যের চাপে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রাজশাহীবাসী কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে’
এই পরিস্থিতিতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, শুধু নেসকো নয়, রাজশাহীর কোনো প্রতিষ্ঠান এখান থেকে সরানোর সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তিনি নিজেই আন্দোলনে নামবেন।
বক্তব্যের সময় তিনি অতীতের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯২ সালে তিনি রাজশাহীর মেয়র থাকাকালে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় সদর দপ্তর চট্টগ্রামে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেসময় তিনি অনশন, মিছিল ও আন্দোলনের মাধ্যমে সেই উদ্যোগ প্রতিহত করেছিলেন। তার ভাষায়, যেভাবে পশ্চিমাঞ্চল রেল রাজশাহী থেকে যেতে দেননি, ঠিক সেভাবেই নেসকোকেও যেতে দেবেন না।
মিনু আরও বলেন, তার কাছে মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যের পদ বড় নয়; রাজশাহীর স্বার্থই সবচেয়ে বড়। এই মাটিতেই তার জন্ম, এই মাটিতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান। তাই রাজশাহীর স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘রাজশাহীর মানুষ সারাদিন চিৎকার করে। অথচ পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিদ্যুৎ সার্ভিস। আপনাদের এত ব্যথা লাগে কেন? ব্যথা লাগাবেন না ভাই। হোক না বগুড়ায় হেড অফিস, আপনারা জোনাল অফিস নেন’—প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
তার এই বক্তব্যের সময় উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান। পরে বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
ভূমিমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজশাহীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নেসকোর প্রধান কার্যালয় রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিতে শুরু করেছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতারাও প্রয়োজন হলে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াত, এনসিপি এবং কয়েকটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ ইস্যুতে কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেসকো ইস্যু এখন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি রাজশাহীর মানুষের আত্মমর্যাদা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং উন্নয়নের প্রশ্নে রূপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় কোনো শহরে থাকলে সেই শহরের প্রশাসনিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরকারি কার্যক্রমের পরিধি বাড়ে। তাই নেসকোর প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরিত হলে রাজশাহীর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
জেলাবাসীর আশঙ্কা, একবার একটি বড় প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর সরিয়ে নেওয়ার নজির তৈরি হলে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও রাজশাহী থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
রাজশাহীতেই রাখতে এককাট্টা সবাই
নেসকোর সদর দপ্তর রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রতিবাদ জানিয়ে এক ভিডিও বার্তায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত বলেন, রাজশাহীর মতো একটি প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ বিভাগীয় শহর থেকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তাব সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য এবং রাজশাহীর জনগণের প্রতি সুস্পষ্ট বৈষম্যের শামিল।
তিনি বলেন, কোনো যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এই অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থের পরিপন্থি।
নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল রাখা জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট, যৌক্তিক এবং উত্তরাঞ্চলের সুষম উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি অবিলম্বে স্থানান্তরের প্রস্তাব বাতিল করে প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে ‘জনস্বার্থবিরোধী’ ও ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা দিয়ে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এমাজউদ্দীন মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী অঞ্চলের বিদ্যুৎসেবায় মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে।’
রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘নেসকো যাতে রাজশাহীতেই থাকে, সেজন্য রাজশাহীর এমপি-মন্ত্রী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবসময় সোচ্চার থাকব। মিনু ভাইয়ের ভাষায় বলতে চাই, কোনো ঠিকাদারের কথায় নেসকো এখান থেকে যাবে না, ইনশাআল্লাহ।’
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা বলেন, রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এই শহর থেকে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় সরিয়ে বগুড়ায় নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বগুড়ার একজন প্রতিমন্ত্রী ও দু-একজন সংসদ সদস্যের চাপে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে রাজশাহীবাসী কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এই উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মো. আবুল কাসেম এবং সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদীর সই রয়েছে।
আইনজীবী সমিতির দাবি, প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্র থেকে নেসকোর প্রধান কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রাজশাহীবাসীর ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থের পরিপন্থি। এতে রাজশাহীর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাহেববাজারের একজন ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখান থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া এটি অন্য জেলায় সরিয়ে নেওয়া ঠিক হবে না। আমরা চাই সরকার জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুক।’
উপশহরের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে থাকায় এই অঞ্চলের মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সহজ হয়। যদি এটি অন্যত্র চলে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষকেই বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজশাহী তেমন শিল্পনগরী না হওয়ায় কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। জেলার স্বার্থ ও উত্তরাঞ্চলের সুষম উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল রাখা উচিত।’
এসআর/জেআইএম








