বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো ও ৬৬-র চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার দেখা হচ্ছে দুদলের। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। নিজেদের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ এবং হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাসকে শক্তি বানিয়ে ইংল্যান্ডকে বিদায় করতে চায় মেক্সিকো। ম্যাচটি নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চ ফুটবলবিশ্বে। সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্টও আজতেকার পরিবেশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এমন আবহে খেলার অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চকর হবে।

ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক তারকা ওয়েন রুনি অবশ্য কাগজে-কলমে নিজের দেশকে এগিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর চেয়ে ইংল্যান্ডই ভালো দল। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তবে মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সমর্থক। নিজেদের দর্শকদের সামনে খেলার যে আবেগ, সেটাই তাদের বাড়তি প্রেরণা দেবে। শুধু ফুটবলেই নয়, বক্সিংসহ সব খেলাতেই দেখা যায় মেক্সিকানরা নিজেদের দলকে একসঙ্গে সমর্থন করে। খেলাধুলার প্রতি তাদের আবেগ সত্যিই অসাধারণ। ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিপক্ষ সমর্থকদের উন্মাদনা সামাল দেওয়া।’

ইংল্যান্ডের জন্য আজতেকা স্টেডিয়ামের স্মৃতি সুখকর নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই মাঠেই আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল থ্রি লায়ন্সকে। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোল ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই মাঠে ফিরছে ইংল্যান্ড। এবার অতীতের হতাশা ভুলে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়ে।

চার ম্যাচে শতভাগ জয়ের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত একটিও গোল হজম না করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে মেক্সিকো। তাই নিজেদের সমর্থকদের সামনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিকরা। ৪০ বছর আগের সেই দুঃস্মৃতি ফিরে আসবে না তো ইংল্যান্ডের?