কয়েক দিন আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান ও গৌরি স্প্র্যাট। ঘরোয়া, অন্তরঙ্গ এবং একেবারেই আড়ম্বরহীন বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। বিয়েতে আমিরকে দেখা যায় ব্রোচ-সজ্জিত সাদা কুর্তা-পাজামায়, আর গৌরি স্প্র্যাট পরেছিলেন সূক্ষ্ম কারুকাজে সাজানো হালকা রঙের একটি লেহেঙ্গা। 

আমির-গৌরির বিয়ের অতিথির তালিকা যেমন তারকাখচিত ছিল না, তেমনই বিলাসবহুল ভেন্যুর চাকচিক্যও ছিল না। তবে একটি বিষয় সবার নজর কেড়েছে, তা হলো—গৌরি স্প্র্যাটের আঙুলে থাকা আংটি। বিয়েতে প্রিয় মানুষটির জন্য আমির খান বেছে নেন একটি প্রাকৃতিক রুবি বসানো আংটি, যা তৈরি করেছে বিলাসবহুল গহনার ব্র্যান্ড ‘কুইন’। চলুন জেনে নেওয়া যাক, নজরকাড়া আংটি তৈরির ইতিবৃত্ত—

আংটি তৈরিতে কত সময় লেগেছে? আংটির প্রাকৃতিক রুবিটি সবার আগে নজর কাড়ে, যা নীরব অথচ রাজকীয় এক সৌন্দর্য ছড়িয়েছে। বিরল এই রত্নটি সংগ্রহ করাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ, যা আংটির একচেটিয়া মূল্য ও বিশেষত্ব বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল গহনার ব্র্যান্ড কুইন আংটিটি প্রস্তুত করেছে। ব্র্যান্ডটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অমিত কুমার হিন্দুস্তান টাইমস লাইফস্টাইলকে বলেন, “রুবিটি সংগ্রহ করতে ৩ মাসের বেশি সময় লেগেছে। এরপর আংটি তৈরি করতে কারিগরদের ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করতে হয়েছে। এতে ১৩১ জোড়া দক্ষ হাত কাজ করেছে। এটি মাদাগাস্কারের একটি রুবি, যার মতো রত্ন মিলিয়নে একটিরও কম পাওয়া যায়। বিয়ের এই আংটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা আক্ষরিক অর্থেই রাজকীয়তার প্রতীক।”

বিরল রুবিটি সংগ্রহের পর আংটি তৈরির কাজও ছিল দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম। এটি শুধু একটি সাধারণ বিয়ের আংটি নয়; বরং এমন একটি অভিজাত গহনা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে; যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তর করা যেতে পারে। এসব তথ্য স্মরণ করে অমিত কুমার বলেন, “প্রং সেটিংয়ে বসানো হয়েছে রুবি। আংটির নকশা থেকে রুবি বসানো এবং চূড়ান্ত ফিনিশিং পর্যন্ত ২৫৬ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। পুরো কাজটি করেছেন কুইনের ১৩১ জোড়া অভিজ্ঞ কারিগরের দক্ষ হাত।” 

এমন একটি আংটি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে কুইন, যা দেখে কখনো মনে হবে না, এটি দোকানের তাক থেকে কিনে আনা হয়েছে। প্রতিটি খুঁটিনাটি নিখুঁত হাতে তৈরি করা হয়েছে, যাতে আংটিতে ফুটে ওঠে পরিশীলিত নান্দনিকতা ও স্বাতন্ত্র্য।

আংটির নকশা কীভাবে করা হয়েছে? আংটিটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি প্রচলিত রত্ন বসানোর ধরন বা সাধারণ ব্যান্ডের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অমিত কুমার জানান, রুবিটি কোনো সাধারণ সোনার ব্যান্ডের ওপর বসানো হয়নি। বরং এটি এমন একটি মুকুট আকৃতির সোনার কাঠামোর ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মনে হয়—রাজমুকুটের মতো করে রত্নটিকে ধারণ ও সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। তাছাড়া রুবিটি দেওয়া হয়েছে ক্যাবোশন কাট, অর্থাৎ এটিকে বহু-পৃষ্ঠবিশিষ্ট না করে মসৃণ ও গম্বুজাকৃতিতে পালিশ করা হয়েছে। ফলে রুবিটি গভীর, উজ্জ্বল আভা ছড়ায় এবং আলো পড়লে রং বদলে যাচ্ছে বা ভেতর থেকে জ্বলজ্বল করছে—এমন অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

আংটির অন্যান্য নকশাগত দিকও সমানভাবে রাজকীয়। অমিত কুমার বলেন, “রুবিটিকে ঘিরে রয়েছে স্ক্যালপড সোনার গ্যালারি, যার উঁচু অংশগুলো মুকুটের দাঁতের মতো দেখতে। এরপর সেটি নেমে এসেছে সূক্ষ্ম মিলগ্রেইন বিডিংযুক্ত ব্যান্ডে। হাতে করা এই ধরনের নিখুঁত কারুকাজ ঐতিহাসিকভাবে রাজ্যাভিষেক ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গহনাগুলোর বৈশিষ্ট্য। পাশ থেকে দেখলে আংটিটির অবয়ব একটি উঁচু গম্বুজাকৃতির বোম্বে সিগনেট রিংয়ের মতো; যা ভারী, দৃষ্টিনন্দন এবং সহজেই সবার নজর কাড়ে।” 

আংটির প্রতিটি নকশা ও নির্মাণধাপে উত্তরাধিকারী গহনার ঐতিহ্য, রাজকীয় সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরল রুবি, অনন্য কারুকাজ, রাজকীয় নকশার সমন্বয়ে এটি সত্যিই এক অনন্য বিয়ের আংটিতে পরিণত হয়েছে।

বিরল পাথরে ৪০টি হীরা  মজার ব্যাপার হলো, এটিই প্রথম বিশেষ গহনা নয়, যা আমির তার স্ত্রী গৌরির জন্য বানিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে গৌরিকে আরেকটি আংটি উপহার দেন আমির। ব্রাজিল থেকে আনা বিরল অ্যাকোয়ামেরিন পাথরের আংটি গৌরিকে পরতে দেখা গিয়েছে। এ আংটিতে ৪০টি হীরা বসানো আছে।

*হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে