নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পলি একসময় ঢালিউডের ব্যস্ততম নায়িকাদের একজন ছিলেন। দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি এবার তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে অংশ নেন। তবে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি এই অভিনেত্রী।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ভোট নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন পলি। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে অর্থের ব্যাপক প্রভাব ছিল এবং তাকে হারানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তায় জমি দখল, চাচার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ন্যান্সি

সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে পলি বলেন, ‘আমি একটি কথা বারবারই বলছি। দুই বছর পর আবার যদি এফডিসির নির্বাচনে দাঁড়াই, তাহলে আমার বিশ্বাস, আমি আবারও হেরে যাব। আমাকে নিয়ে যেন একটা জুয়া খেলা হয়। আমার নাম ব্যবহার করে টাকার ছিটাছিটি হয়। আমি মনে করি, ভবিষ্যতেও একই ঘটনা ঘটবে।’

অভিনেত্রীর অভিযোগ, একটি সুষ্ঠু ও সমান সুযোগের নির্বাচনী পরিবেশ তিনি পাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা বা জনপ্রিয়তার চেয়ে অর্থের প্রভাব বেশি কাজ করেছে।

পলি বলেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন শিল্পীদের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু ফলাফল ও নির্বাচনী পরিবেশ তাকে হতাশ করেছে। তার দাবি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

একসময় চলচ্চিত্রে টানা ব্যস্ত থাকা পলি মাঝখানে পারিবারিক জীবনে মনোযোগ দিতে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান। পরে আবার চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হন। বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচনেও তিনি একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।

আরও পড়ুন

অপু বিশ্বাসের দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন, যা জানা গেল

তবে পরাজয়ের পর শুধু ফলাফল মেনে নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি পলি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

যদিও পলির এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বা অভিযুক্ত কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

 

এমআই/এলআইএ