নবাবগঞ্জে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাওয়ের অভিযোগ উঠেছে। ওই শাখার এজেন্ট ছিলেন উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়ন ভাওয়াডুবি গ্রামের সবুজ। তিনি শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, বাংলাবাজারে ব্যাংকটির এজেন্ট শাখা বন্ধ রয়েছে। পাশেই তার বাসায় গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ দেখা যায়।

প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম বলেন, শুনেছি পরিবার-পরিজন নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় কয়েক মাস ধরেই ব্যাংকটি বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকরা এজেন্ট সবুজকে পাগল হয়ে খুঁজছে। কেউ কেউ বলছে ৫-৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সবুজ। জানা যায়, জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে গ্রাহকরা তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলছে। প্রতারণার শিকার হয়ে দিশেহারা প্রায় শতাধিক গ্রাহক। ৭-৮ বছর আগে নয়নশ্রীর বাংলাবাজারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখাটি চালু করেন সবুজ হাসান।

এদিকে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়ার পর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখাটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতে টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে গ্রাহকদের। গ্রাহকরা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নির্ধারিত ক্যাশ মেমোতে বিভিন্ন অঙ্কের স্থায়ী আমানত ওই শাখায় জমা দিয়েছেন। বিপরীতে শতকরা ১১ শতাংশ মুনাফা পেতেন। গত ৬-৭ মাস লভ্যাংশের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে আসছিলেন শাখার এজেন্ট। মে মাস থেকে লভ্যাংশের টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে গ্রাহকরা সবুজকে চাপ দিলেও ধৈর্য ধরতে বলেন এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দিচ্ছে না বলে জানায়।

সেকান্দার হোসেন নামে এক গ্রাহক বলেন, সবুজ কইছিল লাখে এক হাজার ১০০ টাকা করে লাভ দেবে। অনেক কষ্ট করে লাভের আশায় দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা স্থায়ী আমানত ওই শাখায় জমা দিয়েছিলাম। ছয় মাসের লাভ পাইছি। অহন তো সবুজ পালায়ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সবুজের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়। শাখা তদারকির দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমানকে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সাড়া মিলেনি। তাকে খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি।