বরিশালে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত নগর পরিবহণের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ যাত্রীরা। কোনো ধরনের গণশুনানি বা যাত্রীদের মতামত ছাড়াই হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানোয় প্রতিদিন অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে চলছে তীব্র সমালোচনা।

বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েক দিন আগে শিক্ষার্থীরা বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা ঘোষণা না আসায় শনিবার আবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও প্রশাসনের নীরবতায় তারা হতাশ। তাই দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

যাত্রীরা জানান, আগে নগরীর স্বল্প দূরত্বে যেখানে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে সর্বনিম্ন ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। কিছু রুটে এর চেয়েও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা না থাকায় চালকের ইচ্ছামতো ভাড়া নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন অফিস, ব্যবসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হওয়ায় তাদের মাসিক ব্যয় বেড়ে গেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে হেঁটে অথবা বিকল্প পরিবহণ ব্যবহার করছেন।

নগরবাসীর অভিযোগ, বরিশালে কার্যকর সিটি বাস সেবা না থাকায় অটোরিকশা ও নগর পরিবহণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। সেই সুযোগে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই নগরীতে শৃঙ্খলাবদ্ধ গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

ভোক্তা অধিকার ও যাত্রীসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছ নীতিমালা, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অবিলম্বে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং যাত্রীবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।