২-০ গোলে পিছিয়ে। সেনেগালের জয় প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু ফুটবলে শেষ সেকেন্ডেও গোল হতে পারে। নাটকীয়তার তখনও বাকি থাকে। এই যেমন বেলজিয়াম সেই নাটকীয়তার জন্ম দিলো। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে রোমেলু লুকাকু, এরপর ৮৯ মিনিটে ইওরি তিয়েলম্যানের গোলে অবিশ্বাস্যভাবে ২-২ গোলের সমতায় ফিরে আসে বেলজিয়ানরা। নির্ধারিত সময় সমতায় থাকায় ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
প্রথমার্ধেই ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সেনেগাল। দ্বিতীয়ার্ধেও বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না সেনেগালিজরা। ৫১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে আফ্রিকান দলটি। এই গোলটি করেন ইসমাইলা সার।
রাউন্ড অব ৩২-এ বেলজিয়ামের বিপক্ষে দাপুটে প্রথমার্ধ উপহার দিয়েছে সেনেগাল। সিয়াটলের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য বিস্তার করে হাবিব দিয়ারার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে সেনেগাল। সাদিও মানে, ইসমাইলা সার, ইলিমান এনদিয়ায়ে ও ক্রেপিন দিয়াত্তার সমন্বিত আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ। অন্যদিকে কেভিন ডি ব্রুইনের নেতৃত্বাধীন বেলজিয়াম পুরো প্রথমার্ধেই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি।
৯ মিনিটে বেলজিয়ামের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ আসে। চার্লস ডি কেটেলারের পাস থেকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড নিচু শট নিলেও সেনেগালের গোলরক্ষক দিয়াও দারুণ দক্ষতায় তা রুখে দেন।
এরপর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেয় সেনেগাল। ১৪তম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক সুযোগ নষ্ট করেন ইসমাইলা সার। বাঁ দিক থেকে জ্যাকবসের দুর্দান্ত ক্রসে থিবো কোর্তোয়া প্রথমে বল ঠেকালেও ফিরতি বলে প্রায় ফাঁকা জাল পেয়েছিলেন সার। কিন্তু তার প্রথম প্রচেষ্টা পোস্টে লাগে, এরপর ফিরতি বলও কাছ থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
১৮তম মিনিটে আবারও আক্রমণে ওঠে সেনেগাল। ইদ্রিসা গুইয়ের জোরালো হাফ-ভলি এবার কোর্তোয়া সহজেই সামলে নেন। বিপরীতে ডি ব্রুইনের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
২২তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে ইউরি টিলেমান্স হাবিব দিয়ারাকে ফাউল করেন। অনেকের মতে, সে সময় হলুদ কার্ড দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।
অবশেষে ২৫তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। সাদিও মানে বাম দিক থেকে দুর্দান্ত একটি ক্রস তুলে দেন বক্সে। ইসমাইলা সারের প্রথম হেড ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কোর্তোয়া তখনও মাটিতে পড়ে ছিলেন। সুযোগ বুঝে ফিরতি বলে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে সহজ টোকায় জালে বল জড়িয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।
গোলের পরও থামেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ২৯ মিনিটে প্রথম কুলিং ব্রেকের সময় পরিসংখ্যান বলছিল, সেনেগালের প্রত্যাশিত গোল ছিল ১.৮২, যেখানে বেলজিয়ামের মাত্র ০.০৯। বলের দখলেও এগিয়ে ছিল তারা (৬৫ শতাংশ), সঙ্গে দুইবার পোস্টে আঘাত ও পাঁচটি শট।
৩৭তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পান সাদিও মানে। দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে গোলমুখে ঢুকে পড়লেও শট নেওয়ার সময় পিছলে যাওয়ায় সহজেই বল আটকে দেন কোর্তোয়া।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে কিছুটা চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে বেলজিয়াম। ৪৫ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনের কর্নার থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের বাঁকানো শট অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক দিয়াও। যোগ করা সময়ে আরেকটি কর্নার থেকে হুমকি তৈরি করলেও বেলজিয়ামের আক্রমণ ভেস্তে যায়।
ফলে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। প্রথম ৪৫ মিনিটের পরিসংখ্যানও সেনেগালের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে অপ্টা সুপারকম্পিউটার সেনেগালের জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ২৩.৪ শতাংশ। প্রথমার্ধ শেষে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৩ শতাংশে।
এখন দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়াম ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, নাকি সেনেগাল তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ধরে রেখে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে- সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
আইএইচএস/








