সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো অবশেষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল বেতনের সঙ্গে আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের সুবিধাদি ও ভাতাও বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির কাজ শুরু হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে আরও এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উপায় ও সুপারিশ নির্ধারণে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটিই তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিসভায় পেশ করে।
উল্লেখ্য, অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘নবম জাতীয় বেতন কমিশন’ গঠন করেছিল। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের মূল প্রতিবেদন দাখিল করে।
জাকির আহমেদ খানের কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই মূল বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশন সর্বনিম্ন স্কেলের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ স্কেলের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (নির্ধারিত) করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতাবাবদ বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
তবে সূত্রে জানা গেছে, নাসিমুল গনি কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের ওপরে না নিয়ে যাওয়ার পক্ষে সুপারিশ করে। এ ছাড়া কমিটি দুই বছরের ধাপে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের পরামর্শ দিয়েছিল—যার মধ্যে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় আজ যা অনুমোদিত হয়েছে, তার সঙ্গে আগের কিছু প্রক্রিয়ার কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই মূল বেতন কার্যকর করা হবে, তবে তা দেওয়া হবে ধাপে ধাপে বা ভেঙে ভেঙে।
এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কর্মচারীদের নতুন স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, দীর্ঘ ১১ বছর একই স্কেলে বেতন পাওয়ার পর মূল্যস্ফীতির কারণে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। তাই ধাপে ধাপে নতুন স্কেল বাস্তবায়নের কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বিগত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।








