গ্যাসসংকটে দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত চালু এবং কারখানার নাম জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন। মানববন্ধন শেষে শ্রমিক-কর্মচারীরা আশুগঞ্জ গোলচত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অন্তত ২০ থেকে ২৫ মিনিট অবরোধ করে রাখেন।
কারখানার কারিগরি সূত্র জানায়, কারখানাটি প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করত। তবে গ্যাসসংকটের কারণে কারখানাটি প্রায়ই বন্ধ থাকত।
গত বছরের ১ মার্চ থেকে গ্যাসসংকটের কারণে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে বলে জানান শ্রমিক-কর্মচারীরা। কারখানার ১ হাজার ২০০ স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকসহ অন্তত ২ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এ নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারপত্র ছিল। আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি, আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য এবং উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নোয়াব আলী মুন্সী এবং উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুহেল পারভেজ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নারী শক্তির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জয়ন্তী বিশ্বাস, উপজেলা ট্রাকমালিক সমিতির সভাপতি মো. মাহালম ও সাধারণ সম্পাদক চপল খাঁ এবং আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকও বক্তব্য দেন।
শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, ১৯৮১ সালে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৩ সালে কারখানাটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। ওই বছর আশুগঞ্জ কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের নাম পরিবর্তন করে জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড করা হয়।
শ্রমিক-কর্মচারীদের ভাষ্য, ২০১০ সালে তৎকালীন সরকার জিয়াউর রহমানের নাম বাদ দিয়ে কারখানাটির নাম পুনরায় আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড করে।
শ্রমিক-কর্মচারীরা অবিলম্বে বন্ধ কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে কারখানার নামকরণ এবং ‘জিয়া সারকারখানা-২’ নামে নতুন একটি সারকারখানা স্থাপনের দাবি জানান।
দাবি পূরণ না হলে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধের ঘোষণা দেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।








