বিএফডিসিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ১৭টি সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সংগঠনের মধ্যে অন্যতম একটি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। আশির দশকের শুরুতে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আহমেদ শরীফ। এরপর থেকে প্রতি দুবছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ সংগঠনের নির্বাচন। আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ

এ প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খলঅভিনেতা শিবা সানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। তাদের প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন সহ-সভাপতি রোজিনা ও ডিএ তায়েব, সহ-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত, সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পলি, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক মোসফেকুল জামিল কাকন, কোষাধ্যক্ষ জাদু আজাদ। কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য পদে রয়েছেন আলীরাজ, ফরহাদ, কাবিলা, ইয়ামীন হক ববি, কায়েস আরজু, শিরিন শিলা, শিপন মিত্র, হাসান জাহাঙ্গীর, ফালগুনী রহমান জলি, ফিরোজ শাহী ও জেসমিন আক্তার।

আরমান-মুক্তি পরিষদ

এ প্যানেলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফাইট ডিরেক্টর আরমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অভিনেত্রী রোমানা ইসলাম মুক্তি। প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন সহ-সভাপতি নূতন ও ইলিয়াস কোবরা, সহ-সাধারণ সম্পাদক রিনা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক চুন্নু, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এসএ পারভেজ আবীর চৌধুরী, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক রাসেল মিয়া, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক মারুফ আকিব, কোষাধ্যক্ষ কমল পাটেকর। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে রয়েছেন মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, দুলারী, রাকা, শারমিন আক্তার, লতিফ, নাসরিন, সুশান্ত, শাহীন, বাদল শেখ, আরমান ও শামীম খান (চিকন আলী)।

প্রতিবারের মতো এবারের নির্বাচনেও বেশ কয়েক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইউসুফ খান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে রয়েছেন বেবী, কামরুন নাহার আন্না, সপ্না, হোসনে আরা রিয়া ও পলাশ।

গত ১ জুলাই দুই প্যানেলের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী ভোটের আগের দুই দিন কোনো ধরনের জনসংযোগ বা নির্বাচনি সভা করার সুযোগ ছিল না। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্পীদের জন্য নানা প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন প্রার্থীরা। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জয় চৌধুরী বলেন, ‘আমি নির্দিষ্টভাবে এখনই বড় কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। নির্বাচনি ইশতেহারে কিছু বিষয় থাকলেও আমি মনে করি, শিল্পীদের প্রয়োজন ও বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই কাজ করতে হবে। যেটা প্রয়োজন, সেটাই হবে আমার অগ্রাধিকার। অতীতেও শিল্পীদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকার চেষ্টা করব।’ অন্যদিকে সভাপতি প্রার্থী আরমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ প্রায় বিশ বছর ধরে নির্বাচন করছি এবং শিল্পীদের ভালোবাসায় বারবার নির্বাচিত হয়েছি। সভাপতির দায়িত্ব কী, সেটি আমি জানি। নির্বাচিত হলে শিল্পীদের পাশে থাকাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। সিনেমাহল সংকট নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলব। শিল্পীদের জন্য একটি ফান্ড গঠন করব, বিশেষ করে অসহায় শিল্পীদের সহায়তায়। পাশাপাশি সমিতির একটি অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার আয় শিল্পীদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।’

এবারের নির্বাচনে ৫৭৩ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এফডিসিতে শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে ভোট শুরু হবে সকাল ৯টায় এবং শেষ হবে বিকাল ৪টায়। এতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রযোজক কামাল কিবরিয়া লিপু। তাকে সহযোগিতা করছেন খোরশেদ আলম খসরু ও বি এইচ নিশান। নির্বাচনপরবর্তী আপিল বিভাগের দায়িত্বে আছেন নির্মাতা বাদল খন্দকার, ছটকু আহমেদ ও কাজী হায়াৎ।

সিনেমার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন হিসাবে শিল্পী সমিতির এ নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যেই বিএফডিসিতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের ফলাফলের, কার হাতে উঠবে আগামী দিনের নেতৃত্ব।