পাঁচ বছর পর ঘোষিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের ৩৯ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘিরে আঞ্চলিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। কমিটির শীর্ষ পদসহ অন্তত ১৫টি পদ ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার নেতাদের দেওয়ায় নেতৃত্বের ভারসাম্য নিয়ে সংগঠনটির একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘শৈলকূপা কমিটি’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত কয়েকজন নেতাকর্মী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ১৫ জনই শৈলকূপা উপজেলার। তাদের মধ্যে রয়েছেন-আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসাইন, আবু সাঈদ রনি, তাপস অধিকারী, রিফাত হোসাইন ও নয়ন হোসেন। এছাড়া সদস্য হিসাবে রয়েছেন-রিয়াজ উদ্দিন, আশিক ইকবাল, মেহমুদ হাসান উৎস, সজিব হোসাইন, মাহফুজা খাতুন, নকিবুল ইসলাম অংকন, এনামুল হক পুলক ও মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। আগের কমিটির আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদের বাড়িও ঝিনাইদহে ছিল। ফলে টানা দুই কমিটিতে একই জেলার প্রাধান্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নেতৃত্ব নির্বাচনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের পরিবর্তে লবিং ও বিশেষ প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনেক ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকে মূল্যায়ন না করে সুপারিশের ভিত্তিতে পদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের আগের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে আসা কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। কমিটি ঘোষণার পর যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, ‘বাসা পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া বা ঝিনাইদহ না।’ আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন লিখেছেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি আমাদের মতো বাইরের মানুষের জন্য না। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শৈলকূপা উপজেলা কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’ একইভাবে যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেন স্বাক্ষরও ‘শৈলকূপা উপজেলা কমিটি’ উল্লেখ করে পোস্ট দেন। আগের কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যিনি এবারও একই পদে রয়েছেন। ফেসুবকে তিনি লেখেন, ‘উপজেলা কমিটি, ভাগ্য নাকি লবিং?’ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে আঞ্চলিক বলয়ে বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে। ঝিনাইদহ কেন্দ্রিক এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের সুপারিশের মাধ্যমে ওই কেন্দ্রিক বলয় থেকেই নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে ৫ আগস্টের পরে রাজনীতিতে আসা অনেককেই ভালো পদে রাখা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটি হলে আমাকে বঞ্চিত করা হতো না। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নতুন কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কমিটিতে কোনো আঞ্চলিক পক্ষপাত করা হয়নি। বিভিন্ন এলাকার নেতাদের সমন্বয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিতে সবাইকে স্থান দেওয়া সম্ভব নয়। যারা বাদ পড়েছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাদের মূল্যায়নের চেষ্টা করা হবে।