এই সময়ে নাটকের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। টিভি ও ইউটিউবে নিয়মিত মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত নাটক। অল্প সময়ে দর্শকের কাছে হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়। পাঁচ বছর পর সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন ‘ফিরে আসার গল্প’ নামের ধারাবাহিক নাটকে। তটিনীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিহাব আহমেদ।
আমি এমন একটি গল্প দিয়ে ধারাবাহিকে ফিরতে চেয়েছি, যেটা দর্শকের মনে দাগ কাটবে। এখানে আমার চরিত্রটি খুবই বাস্তবধর্মী এবং আবেগপূর্ণ। চরিত্রটির অনেক স্তর আছে। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, দ্বন্দ্ব, আত্মত্যাগ—সবকিছুই দর্শক ধীরে ধীরে আবিষ্কার করবেন। আশা করছি, অনেক দিন পর ধারাবাহিকে দর্শক আমাকে নতুনভাবে দেখতে পাবেন। ধারাবাহিকটির পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এতে গুণী অনেক শিল্পীকে দেখা যাবে। শিগগির আমরা শুটিং শুরু করব, এখন চলছে প্রি-প্রোডাকশনের কাজ।
একটু কঠিন তো অবশ্যই ছিল। কারণ, ধারাবাহিকের জন্য সময় দিতে হয় অনেক এবং সেই সময়টুকু বের করা সহজ নয়। তবে আমি সব সময় গল্পকে প্রাধান্য দিই। যখন মনে হয়েছে গল্প এবং আমার চরিত্রটি মনে ধরার মতো, তখন আর না বলার সুযোগ ছিল না। ভালো কাজের জন্য সময় বের করতেই হয়।
পথহারা মন খুব সুন্দর একটি গল্প। এখানে সম্পর্ক, অনুভূতি এবং জীবনের কিছু অপ্রত্যাশিত মোড় খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, নাটকটি দর্শককে শুধু বিনোদনই দেবে না, ভাবার সুযোগ করে দেবে। পুরো টিম খুব আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। এটিও পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। গত শুক্রবার সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পেয়েছে নাটকটি। প্রকাশের পর থেকে দর্শকের ভালো সাড়া পাচ্ছি।
জাহিদ হাসান ভাই অসাধারণ শিল্পী। তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানেই প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা। তিনি সেটে খুব আন্তরিক এবং সহযোগিতাপরায়ণ। একজন সিনিয়র হিসেবে তিনি যেভাবে সহশিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্য দেন, সেটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা যে কাউকে ঋদ্ধ করবে।
প্রত্যাশা অবশ্যই একটা দায়িত্ব তৈরি করে। তবে আমি এটাকে চাপ হিসেবে দেখি না, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি। দর্শক যখন ভালোবাসা দেন, তখন আরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা বেড়ে যায়। আমি চেষ্টা করি, প্রতিটি কাজে আগের কাজের চেয়ে ভালো কিছু দেওয়ার।
সময় কম থাকলেও আমি সব সময় চরিত্রটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করি। গল্পটি কয়েকবার পড়ি, পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করি এবং চরিত্রটির মানসিকতা, সংলাপ বলার ধরন নিয়ে ভাবি। ছোট ছোট বিষয়ই অনেক সময় একটি চরিত্রকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
প্রতিটি চরিত্রেরই নিজস্ব চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে যেসব চরিত্রে আবেগের অনেক ওঠানামা থাকে বা মানসিক পরিবর্তন ফুটিয়ে তুলতে হয়, সেগুলো আমার কাছে কঠিন মনে হয়। কারণ, সেখানে অভিনয়কে খুব স্বাভাবিক রাখতে হয়। সেই চ্যালেঞ্জটাই আমাকে নতুন করে শিখতে সাহায্য করে।
আলহামদুলিল্লাহ, দর্শকের ভালোবাসা এবং নির্মাতাদের আস্থা—দুটিই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। একই সঙ্গে এটি একটি বড় দায়িত্বও। আমি চেষ্টা করি প্রতিটি কাজের প্রতি শতভাগ আন্তরিক থাকতে। ব্যস্ততা আছে, কিন্তু ভালো কাজের জন্য এই ব্যস্ততাও উপভোগ করি।
হ্যাঁ, সময় পেলেই দেখি। নিজের কাজ দেখার মূল উদ্দেশ্য হলো কোথায় ভুল হয়েছে বা কোথায় আরও ভালো করা যেত, সেটা বোঝার চেষ্টা করা। নিজের অভিনয় দেখে নিজের সমালোচনাই বেশি করি। কারণ, প্রতিটি কাজ থেকেই শেখার সুযোগ থাকে।
পরিবারের সবাই আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক। তাঁরা ভালো কাজের প্রশংসা করেন, আবার কোথাও উন্নতির প্রয়োজন হলে সেটাও খোলাখুলিভাবে বলেন। তাঁদের এই সৎ মতামত আমাকে আরও সচেতনভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
শুধু করার জন্যই সিনেমাটা করতে চাই না। গল্প, চরিত্র এবং পুরো প্রজেক্ট যদি বিশ্বাসযোগ্য ও মানসম্মত মনে হয়, তাহলে অবশ্যই সিনেমায় কাজ করব। আমি সব সময় ভালো কাজের অপেক্ষায় থাকি, সেটা নাটক, ওটিটি বা সিনেমা—যে মাধ্যমেই হোক।








