বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার সমীকরণ সামনে রেখে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে আজ যেন এক দ্বৈরথের আবহ। শেষ চারের টিকিটের লড়াইয়ে রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই চেনা প্রতিপক্ষ স্পেন ও বেলজিয়াম। একদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দল স্পেন, যারা এখন পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত করে রেখেছে। অন্যদিকে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো রোমাঞ্চকর এক বেলজিয়াম।

সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানের মহাকাব্যিক জয় আর শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া রুডি গার্সিয়ার শিষ্যরা এখন আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে।

ম্যাচটিতে কৌশলের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে কিছু ব্যক্তিগত আবেগ আর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই; যার কেন্দ্রে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। দীর্ঘ সময় স্পেনে কাটানো এই তারকার কাছে ম্যাচটি যেন চেনা আঙিনায় এক অচেনা লড়াই। ম্যাচের আবহ টের পেয়ে কোর্তোয়া নিজেই বলছিলেন, ‘আমার কাছে স্পেন হলো আমার দ্বিতীয় বাড়ি। আমি বলব না যে আমি নিজেকে অর্ধেক স্প্যানিশ মনে করি, তবে প্রায় কাছাকাছি। আমার সন্তানদের স্প্যানিশ পাসপোর্ট রয়েছে।’

তবে মাঠের লড়াইয়ে যে কোনো আবেগের জায়গা নেই, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতেই যোগ করলেন, ‘এটি একটি বিশেষ খেলা। আমি ইতিমধ্যে অনেক স্প্যানিশ বন্ধুর বার্তা পেয়েছি, যারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—এবার তারা আমাকে সমর্থন করবে না। তবে এটি একটি দুর্দান্ত ম্যাচ হতে যাচ্ছে এবং আমরা জেতার জন্য সবটুকু ঢেলে দেব।’

স্পেনের অপ্রতিরোধ্য ফর্ম মাথায় রাখার পাশাপাশি লামিনে ইয়ামালকে নিয়েও ভাবতে হচ্ছে বেলজিয়ামের। কোর্তোয়া বলেন, ‘তারা ভালো খেলছে, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করছে শান্তভাবে। তারা এখনো কোনো গোল হজম করেনি। ইয়ামাল দারুণ প্রতিভাবান, তাকে আমাদের কড়া নজরে রাখতে হবে।’

স্পেনও অবশ্য প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিন্দুমাত্র গা ভাসিয়ে দিচ্ছে না। কেভিন ডি ব্রুইনা-রোমেলু লুকাকুদের কারণে অভিজ্ঞতায় স্পেনের চেয়ে ভারী বেলজিয়াম। বিশেষ করে কোর্তোয়া নামক প্রাচীর ভাঙার চ্যালেঞ্জটা ভালোই জানা আছে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি অলমোর। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয় স্প্যানিশ ড্রেসিংরুমের চেহারা বদলে দিয়েছে জানিয়ে অলমো বলেন, ‘আমরা দারুণ অনুভব করছি, খুব উত্তেজিত এবং ম্যাচের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রাণিত। পর্তুগালের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়, বিশেষ করে মিকেলের শেষ মুহূর্তের গোলটি আমাদের শক্তির একটা বড় বুস্ট দিয়েছে। সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার পর, এখন আমাদের সেরাটা ধরে রাখা আমাদের ওপরই নির্ভর করছে।’

বেলজিয়ামকে সমীহ করে অলমো বলেন, ‘তারা দেখিয়েছে যে তাদের দলে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক রয়েছে, যদি সেরা না-ও হয়। তাদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে এবং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ তবে শেষটায় কোনো রাখঢাক না রেখেই আত্মবিশ্বাসী অলমো বার্তা দিয়ে রাখলেন, ‘সেমিফাইনালে দেখা হবে (সমর্থকদের উদ্দেশে)।’

বিশ্বকাপে এর আগে দুই দলের দেখা হয়েছে দুবার। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল বেলজিয়াম, আর ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে প্রতিশোধ নিয়ে ২-১ গোলে জিতেছিল স্পেন। আজ তাই লস অ্যাঞ্জেলসের মাঠে সমতা ভাঙার লড়াইও। স্পেনের নিখুঁত পাসিং ফুটবল আর বেলজিয়ামের গতিময় পাল্টা আক্রমণের এই ধ্রুপদি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা শেষ চারের টিকিট কাটে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে ফুটবল-বিশ্ব।