নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত ইসমাইল হোসেন বাবু ওরফে মোফা বাবুকে এবার বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একের পর এক গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে সে বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

ডিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আটটার দিকে নিকুঞ্জ-২ এলাকার ‘ঢাকা স্পাইস’ রেস্তোরাঁর সামনে মাদক বিক্রির সময় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মোফা বাবুকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

মোফা বাবু খিলক্ষেত থানা এলাকার ৯৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব পদধারী বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মোফা বাবুর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে খিলক্ষেত থানা বিএনপির এক প্রভাবশালী যুগ্ম আহ্বায়কের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আশ্রয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, নিকুঞ্জ এলাকায় বসবাসকারী অঅঅ কথিত অওই নেতা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে রক্ষা করে আসছেন। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—অনেকেই ভয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, অতীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে মোফা বাবু দ্রুত মুক্তি পেয়েছেন। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এ প্রতিনিধিকে বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে এলাকায় কিছুদিনের জন্য স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও আগের মতো চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা শুরু হয়। এতে যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

এদিকে, মোফা বাবুর বিরুদ্ধে একাধিকবার গুরুতর অভিযোগ ওঠা এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দলীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁদের ভাষ্য, বহিষ্কার তো দূরের কথা, প্রকাশ্যে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এর পেছনে প্রভাবশালী একটি মহলের হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

তৃণমূলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মতে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে বারবার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দলের ঘোষিত অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

সচেতন নাগরিকেরা মনে করছেন, ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ টানা ৬ দিন বন্ধ সেন্ট মার্টিন-টেকনাফ নৌপথ, খাদ্য সংকটের শঙ্কা

তাঁদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে অপরাধী ও তাদের কথিত পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।

The post নিকুঞ্জে ইয়াবাসহ ফের গ্রেপ্তার ‘মোফা বাবু’, নেপথ্যে থানা বিএনপির শীর্ষ নেতার আশ্রয়ের অভিযোগ appeared first on ZoomBangla.