নায়করা কেউ আসেন নিঃশব্দে, মাঠ ছাড়ার সময় পুরো স্টেডিয়ামে আলো জ্বালান। চার্লস ডি কেটেলারা বলের সঙ্গে কথা বলেন। সেই নীরব ভাষাই তাকে বেলজিয়ামের নতুন আশার প্রতীকে পরিণত করেছে। ২০০১ সালের ১০ মার্চ বেলজিয়ামের ঐতিহাসিক শহর ব্রুজে জন্ম কেটেলারার শৈশব কেটেছে ফুটবলকে ঘিরেই। অল্প বয়সে ক্লাব ব্রুজের একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানেই শেখেন আধুনিক ফুটবলের প্রতিটি সূক্ষ্মতা। ক্লাব ব্রুজের জার্সিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। লিগ শিরোপা, সুপার কাপ এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে নিয়ে আসে। এরপর ইতালির এসি মিলানে পাড়ি জমান। প্রথম অধ্যায়টি প্রত্যাশামতো না হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। ব্যর্থতাকে নিজের শিক্ষক বানিয়েছেন। পরে আতালান্তায় যোগ দিয়ে নতুন করে নিজের পরিচয় খুঁজে পান। সিরি আ-তে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও প্রমাণ করেন, বড় মঞ্চে খেলার জন্যই তার জন্ম। জাতীয় দলের জার্সিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন তিনি। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকুদের অভিজ্ঞতার পাশে নতুন প্রজন্মের মুখ হিসাবে এখন তাকে দেখছে বেলজিয়াম।

এই বিশ্বকাপ তার ক্যারিয়ারের নতুন পরিচয় লিখছে। গ্রুপপর্বে প্রতিটি ম্যাচেই আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ছাপ রেখেছেন ডি কেটেলায়েরে। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে সুযোগ তৈরি, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আক্রমণের নেতৃত্ব এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ধৈর্যশীল ফুটবলে ছিলেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। রাউন্ড অব ৩২-এ সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বিস্ফোরণ ঘটে শেষ ষোলোয়। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে জোড়া গোল করে ম্যাচের ভাগ্য একাই নির্ধারণ করে দেন। সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট। তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখে ম্যাচসেরা হন। তার পরিণত ফুটবল, গোল করার ক্ষমতা এবং আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা বেলজিয়ামকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

কেটেলারার বিশেষত্ব শুধু গোলে নয়। ম্যাচের ছন্দ বদলে দিতে পারেন একটি পাসে, একটি টাচে কিংবা একটি বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্টে। লম্বা গড়ন, অসাধারণ প্রথম স্পর্শ, দুই পায়েই বল নিয়ন্ত্রণ এবং খোলা জায়গা তৈরি করার দক্ষতা তাকে আধুনিক ফুটবলের সম্পূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কেটেলারা বলেন, ‘বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের জার্সি গায়ে প্রতিটি ম্যাচই আমার কাছে স্বপ্নের মতো। ব্যক্তিগত গোল বা অ্যাসিস্টের চেয়ে দলের জয়ই আমার কাছে মুখ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এই দল অনেকদূর যেতে পারে। এখন আমাদের লক্ষ্য শুধু পরের ম্যাচ, কারণ নকআউটে একটি ভুলই সব স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে।’ বেলজিয়ামের কোচের মুখেও তার প্রশংসা, ‘চার্লস ম্যাচকে খুব ভালোভাবে পড়তে পারে। সে কখন গতি বাড়াতে হবে, কখন খেলা থামাতে হবে-সব বুঝতে পারে। বড় ম্যাচে এমন ফুটবলারই পার্থক্য গড়ে দেয়।’ সতীর্থ কেভিন ডি ব্রুইনার মতে, ‘চার্লসের মধ্যে ভবিষ্যতের একজন বড় ফুটবলারের সব গুণ আছে। সে সব সময় শেখা এবং উন্নতির চেষ্টা করে। এই মানসিকতাই তাকে অনেকদূর নিয়ে যাবে।’