প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গাজীপুর-হোসেনপুর ৩৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কটির নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়েও শেষ হয়নি। ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। বর্ষার পানি জমে গর্তগুলোর আকার ও গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষ ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও গাজীপুর জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এই পথটি ব্যবহার করেন। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ নেয়। ২০২২-২০২৩ সনে কাজটি শেষ করার চুক্তিতে দায়িত্ব পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তাহের ব্রাদার্স’। পূর্বের সরু সড়কটি উভয়পাশে প্রশস্ত করে ওপরে ৩০ ফুট কার্পেটিং এবং নিচে ৪৮ ফুট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ২৪টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি ড্রেন ও সিসি ব্লক দ্বারা প্রটেকশনের কাজও এর অন্তর্ভুক্ত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে কাজ শুরু করলেও নানা জটিলতায় নির্ধারিত মেয়াদে তা শেষ করতে পারেনি। বর্তমানে সড়কের অনেক জায়গায় একপাশের পুরোনো ভাঙা কার্পেটিং রয়ে গেছে। দুই পাশে স্তূপ করে রাখা মাটি বৃষ্টিতে কাদা এবং শুকনাতে ধুলাবালির সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে মধুপুর বাজার, লক্ষ্মীপুর মসজিদ, হাটশিরা সেতু ও বিরাশি এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর মসজিদের সামনের একটি বড় গর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংসদ-সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার নির্দেশে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত ইট-বালি ফেলে সাময়িকভাবে স্থানটি চলাচলের উপযোগী করে তোলে।