লাল কার্ড পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে না থাকারই কথা ফোলারিন বালোগানের। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম ম্যাচ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা কেটে যায় বালোগানের। আজ স্বয়ং ট্রাম্প তা স্বীকার করেছেন।

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বালোগানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করে ফিফা গত রাতে একটি বিবৃতি দিয়েছিল। এই ঘটনায় ফুটবল বিশ্ব তোলপাড়। আজ হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি শুধু সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতেই হবে—এমন কোনো নির্দেশ দেননি।

ফিফাকে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে ভুল কিছু করেননি বলে দাবি ট্রাম্পের। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট বলেন,‘আমার মতে (বালোগানের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে) তা বড় ধরনের কলঙ্ক হয়ে থাকত। আমি তাদের কী করতে হবে, তা বলে দিতে পারি না। আমার বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্ত ফিফা নেয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কমিশন নিয়েছে। আর সেটিই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।’

বালোগান গত ২ জুলাই শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, তারা দুজনই অসাধারণ ক্রীড়াবিদ, যারা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে জড়িয়ে পড়েছিল।’

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তোলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

বালোগানের মতোই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৬২ সালে গারিঞ্চার সঙ্গে চিলির বিপক্ষে সেমিফাইনালে। সেই সময়ে লাল কার্ড দেখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতো না। কোনো খেলোয়াড় মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করতে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হতো। ফিফার অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রমাণের অভাবের কারণে ৫-২ ভোটে গারিঞ্চা খালাস পান। তাঁকে কেবল একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। ফলে তিনি ফাইনালে খেলতে পেরেছিলেন এবং ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। আর যে বালোগানকে নিয়ে তোলপাড়, তিনি এবারের বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল। আগামীকাল সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে।