২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের বিদায়ে ভেঙে গেছে ১৯৯০ সাল থেকে চলা একটি ধারাবাহিকতা। ৩৬ বছর পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ব্রাজিল। কার্লো আনচেলত্তির দল বিদায় নেওয়ার পর বাকি টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য চিত্র কেমন হতে পারে, তা জানতে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও’গ্লোবো তিনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সিস্টেম- চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি এবং এক্স-এর গ্রোককে বর্তমান নকআউট সূচি ধরে সিমুলেশন চালাতে বলে।

নকআউট পর্বের কয়েকটি ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণীতে পার্থক্য থাকলেও তিনটির মধ্যে দুটি একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে- ফ্রান্সই শিরোপার প্রধান দাবিদার। কেবল গ্রোকই টানা দ্বিতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে।

চ্যাটজিপিটির সিমুলেশন অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারাবে ফ্রান্স। এরপর সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে বিদায় করে ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতবে তারা।

এই ভবিষ্যদ্বাণীতে ফ্রান্সের শক্তিশালী স্কোয়াডের গভীরতা, সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা এবং হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ জেতার সামর্থ্যকে তাদের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেমিনির ভবিষ্যদ্বাণীও প্রায় একই। তাদের সিমুলেশনে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারানোর পর সেমিফাইনালে কঠিন লড়াইয়ে পর্তুগালকে বিদায় দেবে ফ্রান্স। এরপর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে কিলিয়ান এমবাপের দল।

জেমিনির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এমবাপেকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই প্রজন্মে যেমন কারিগরি দক্ষতা রয়েছে, তেমনি বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও আছে, যা ফ্রান্সকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল করে তুলেছে।

একমাত্র ভিন্ন পূর্বাভাস দিয়েছে এক্স এর এআই- গ্রোক। তাদের সিমুলেশন অনুযায়ী, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। এবারও নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকবে, তবে টাইব্রেকারে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা।

গ্রোকের মতে, আর্জেন্টিনার জার্সির ঐতিহ্য, সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে।

তিনটি সিমুলেশনে চ্যাম্পিয়নের নাম ভিন্ন হলেও কয়েকটি বিষয়ে মিল রয়েছে। সবগুলো পূর্বাভাসেই ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে দেখা হয়েছে, যা এই দুই ইউরোপীয় দলের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন।

এছাড়া ব্রাজিলকে বিদায় করা নরওয়েও ভবিষ্যদ্বাণীগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দুটি সিমুলেশনে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত উঠবে বলে ধারণা করা হয়েছে। আর গ্রোকের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী নরওয়ে সেমিফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান অর্জন করবে।

তবে এসব ভবিষ্যদ্বাণী কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাপার নয় এবং এগুলো শুধুমাত্র ফিফার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেও তৈরি হয়নি। এআই মডেলগুলো বর্তমান নকআউট সূচি, দলগুলোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, স্কোয়াডের শক্তিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের অতীত ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন দৃশ্যপট তৈরি করেছে।

আরএএইচইউএল/আইএইচএস