বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন আরলিং হালান্ড। এই জোড়া গোল বিশ্বকাপের ইতিহাসেও গড়েছে এক অনন্য নজির।

চলমান বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গেছেন হালান্ড। ফলে তিনি লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো এক আসরে তিনজন ভিন্ন খেলোয়াড় সাত বা তার বেশি গোল করেছেন।

এই রেকর্ডটি এবারের বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলদাতার লড়াইয়ের তীব্রতাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে হালান্ডের গোল ছিল পাঁচটি, অর্থাৎ তিনি মেসি ও এমবাপের পেছনে ছিলেন। কিন্তু জোড়া গোল করে তিনি শুধু নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়ই নিশ্চিত করেননি, গোলদাতাদের তালিকাতেও উঠে এসেছেন শীর্ষে।

এখন মেসি, এমবাপে ও হালান্ড- তিনজনেরই গোল সাতটি। তাদের ঠিক পেছনেই ছয় গোল নিয়ে রয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত, আর এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোনো আসরে সর্বোচ্চ সাত বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড় দুজনের বেশি দেখা যায়নি। ১৯৭০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার ১০ গোল করেছিলেন, আর চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জাইরজিনিয়োর গোল ছিল সাতটি।

এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে করেছিলেন আট গোল। আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি করেছিলেন সাত গোল। অন্যদিকে ১৯৫৪ ও ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ছিল একক গোলদাতাদের আধিপত্যের উদাহরণ। ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির শান্দর কচসিস করেছিলেন ১১ গোল, আর ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন করেছিলেন ১৩ গোল, যা এখনো এক আসরের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের জন্য নয়, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের সংখ্যার দিক থেকেও ইতিহাস গড়ছে। ২০২২ সালের ফাইনালের দুই নায়ক মেসি ও এমবাপে যেখানে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে নেমেছিলেন, সেখানে অভিষেক বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই হালান্ড সেই লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন।

ব্রাজিলের বিপক্ষে তার জোড়া গোল শুধু নরওয়েকে এগিয়ে দেয়নি, তাকে পৌঁছে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।

আরএএইচইউএল/আইএন