বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগুনকে খেলার অনুমতি দেওয়ার ফিফার সিদ্ধান্তে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছে দ্য রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বালোগুন যদি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নামেন, তবে তারা সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে।
এক বিবৃতিতে আরবিএফএ জানায়, ‘গণমাধ্যমের মাধ্যমে ফিফার বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানার পর আমরা ফিফাকে একটি চিঠি পাঠাই। সেখানে সিদ্ধান্তের কপি, কী প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা এবং প্রযোজ্য নিয়মাবলি নিয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়।’
তবে তাদের অভিযোগ, ফিফা এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো ওই চিঠিকেই আপিল হিসেবে বিবেচনা করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফিফা আমাদের জানায় যে তারা এই চিঠিকে আপিল হিসেবে গ্রহণ করেছে, একজন বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে এবং আপিল সম্পন্ন করার জন্য আমাদের হাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো তথ্যই তারা দেয়নি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হতে হলে আপিলকারীকে আগে সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ কারণ-ব্যাখ্যাসহ তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হয়। কিন্তু আরবিএফএ যখন কেবল বৈধ ব্যাখ্যা চেয়েছিল, তখন ফিফা সেটিকে আপিল হিসেবে গণ্য করে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যাতে সেটি সঙ্গে সঙ্গেই অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা যায়। অথচ একই সাথে ফিফা আরবিএফএর বৈধ প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তরই দেয়নি।’
আরবিএফএর অভিযোগ, ম্যাচ সমন্বয় সভায়ও ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে লাল কার্ডের পর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত অংশটি তাদের উপস্থাপনা থেকে বাদ দেয়।
তাদের ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে আগের চারটি ম্যাচের সমন্বয় সভায় এই বিষয়টি ছিল। কিন্তু এবার সেটি উপস্থাপনা থেকে বাদ দেওয়া হয়। আমরা মৌখিক ও লিখিতভাবে এর কারণ জানতে চাইলেও ফিফা কোনো জবাব দেয়নি।’
বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন বলছে, এখন পর্যন্ত তারা ফিফার কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা পায়নি। তাদের বক্তব্য, ‘এ বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখন পর্যন্ত ফিফা আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যাখ্যা দেয়নি। তাই পরবর্তী ম্যাচে বালোগুনের খেলার যোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’
তারা আরও জানায়, ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, ন্যায্য প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া নৈতিকতা এবং ফুটবলের স্বার্থ রক্ষায় তারা আগামী কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন এবং প্রয়োজনে কয়েক মাসও লড়াই চালিয়ে যাবে।
আরবিএফএর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফিফা তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর ধারা ব্যবহার করেছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চাইলে আগে দেওয়া কোনো শাস্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তবে একই ডিসিপ্লিনারি কোডের ৬৬.৪ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো খেলোয়াড় সরাসরি লাল কার্ড দেখলে (মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হলে) তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন। এবারের বিশ্বকাপে এর আগে দেওয়া সব লাল কার্ডের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা বিধিমালার ১০.৫ ধারায়ও উল্লেখ রয়েছে, ‘কোনো খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফ সরাসরি কিংবা দ্বিতীয় হলুদ থেকে লাল কার্ড দেখলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দলের পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন। প্রয়োজনে এর সঙ্গে অতিরিক্ত শাস্তিও যোগ হতে পারে।’
বেলজিয়ামের দাবি, ২০২৬ সালের ১২ মে অংশগ্রহণকারী সব সদস্য দেশের কাছে পাঠানো ফিফার সার্কুলার নম্বর ১৬-তেও একই নিয়ম পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচ-পূর্ব সমন্বয় সভা এবং বিশ্বকাপের কর্মশালার উপস্থাপনাতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
সবশেষে আরবিএফএ জানায়, ‘অংশগ্রহণকারী সব দলের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং এই বিশ্বকাপসহ ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোতে ফেয়ার প্লের মৌলিক নীতিগুলো অক্ষুণ্ন রাখতে আমরা সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছি।’
আরএএইচইউএল/আইএন








