কারও কাছে এটি স্রেফ একটি সিনেমা। আবার কারও কাছে এটি ইতিহাসের এমন এক অধ্যায়, যা পর্দায় দেখানো নিয়েই আপত্তি। মুক্তির আগেই চার বছরের বেশি সময় ধরে সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে লড়াই, একের পর এক নাম পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সরে দাঁড়ানো, আর শেষ পর্যন্ত ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতে সরিয়ে নেওয়া—দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’-এর যাত্রাপথ যেন নিজেই একটি সিনেমার গল্প।
৩ জুলাই ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি৫–এ মুক্তি পায়। কোনো প্রচার ছাড়াই এক রকম গোপনে মুক্তির দুই দিন না যেতেই ৫ জুলাই প্ল্যাটফর্মটি জানায়, ‘বর্তমান পরিস্থিতির’ কারণে ছবিটি ভারতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অথচ ভারতের বাইরে জি৫ গ্লোবাল–এ ছবিটি তখনো দেখা যাচ্ছিল। এতেই নতুন করে শুরু হয় বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তোলেন—যদি ছবিটি আইনিভাবে মুক্তির অনুমতি পেয়ে থাকে, তাহলে হঠাৎ কেন তা সরিয়ে নেওয়া হলো?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হয় কয়েক বছর আগে, যখন ছবিটির নামও ‘সতলুজ’ ছিল না।
এক ছবির তিন নাম
সিনেমাটি শুরু হয়েছিল ‘ঘালুঘারা’ নামে। পাঞ্জাবি ভাষার এই শব্দটির সঙ্গে শিখ ইতিহাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে শিখদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহৃত হলেও পরে ১৯৮৪-পরবর্তী পাঞ্জাবের সহিংসতার প্রসঙ্গেও এটি ব্যবহৃত হতে থাকে। ফলে নামটি শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল ছিল।
সেন্সর বোর্ডের আপত্তির পর নির্মাতারা ছবির নাম বদলে রাখেন ‘পাঞ্জাব ৯৫’। এ নামটি ছিল ১৯৯৫ সালকে কেন্দ্র করে, যে বছর মানবাধিকারকর্মী জসবন্ত সিং খালরা অপহরণের শিকার হন এবং পরে নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ওটিটিতে মুক্তির আগে ছবির নাম আবার বদলে রাখা হয় ‘সতলুজ’। পাঞ্জাবের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর নামেই এই নতুন শিরোনাম। পরিচালক হানি ত্রেহান পরে বলেন, আগের নাম রাখা সম্ভব হয়নি, তবে ছবির বিষয়বস্তুতে কোনো আপস করা হয়নি। নামের এই তিন দফা পরিবর্তনই বলে দেয়, ছবিটি শুরু থেকেই কতটা চাপের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
আসলে কে ছিলেন জসবন্ত সিং খালরা
ভারতের মানবাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে জসবন্ত সিং খালরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৮০-এর দশকের শেষ ভাগ এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পাঞ্জাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হয়। সেই সময় বহু মানুষ নিখোঁজ হন। অভিযোগ ছিল, তাঁদের অনেককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাহ করা হয়।
খালরা সরকারি নথি ঘেঁটে দাবি করেন, হাজার হাজার অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহ গোপনে দাহ করা হয়েছে। তাঁর অনুসন্ধান শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলেও আলোড়ন তোলে।
১৯৯৫ সালে তিনি অপহৃত হন। পরে তদন্তে পুলিশের কয়েকজন সদস্য দোষী সাব্যস্ত হন। সেই ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই নির্মিত হয়েছে এই চলচ্চিত্র।
তবে নির্মাতারা শুরু থেকেই দাবি করেছেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তির জীবনী নয়; বরং সত্য অনুসন্ধানের মূল্য এবং মানবাধিকারের প্রশ্ন নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।

চার বছরের সেন্সর যুদ্ধ
ছবিটির সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) সঙ্গে। ২০২২ সালে নির্মাতারা যখন ছবিটি ছাড়পত্রের জন্য জমা দেন, তখন বোর্ড ২১টি কাটের শর্ত দেয় বলে জানা যায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কাটের সংখ্যা বেড়ে ১২০–১২৭টিতে পৌঁছায়।
এই কাটগুলোর মধ্যে ছিল কিছু সংলাপ, দৃশ্য, ঐতিহাসিক উল্লেখ এবং বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব। যদিও সিবিএফসি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব কাটের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি, তবু বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
নির্মাতারা প্রথমে আইনি লড়াইয়ের পথও বেছে নেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ফলে ছবিটির মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যায়।
পরিচালক হানি ত্রেহান একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ছবিটিকে এমনভাবে কাটাছেঁড়া করতে তিনি রাজি ছিলেন না, যাতে মূল বক্তব্যই বদলে যায়। একই অবস্থান নিয়েছিলেন দিলজিৎ দোসাঞ্জও। তাঁর ভাষায়, একটি দৃশ্যও যদি অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হতো, তাহলে তিনি সেই সংস্করণের প্রচার করতেন না।
এই অবস্থানের কারণেই ছবিটি বছরের পর বছর মুক্তি পায়নি। কিন্তু সেই দীর্ঘ অপেক্ষাই শেষ পর্যন্ত ‘সালতুজ’-কে একটি সাধারণ চলচ্চিত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার কথা ছিল
২০২৩ সালে তখন ছবিটির নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গালা প্রিমিয়ারের জন্য ছবিটি নির্বাচিত হয়। ভারতীয় স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য এটি ছিল বড় অর্জন। কিন্তু উৎসব শুরুর আগেই হঠাৎ প্রদর্শনী বাতিল হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তখন আলোচনা শুরু হয়, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও সেন্সর জটিলতার কারণেই ছবিটি উৎসব থেকে সরে যায়। যদিও উৎসব কর্তৃপক্ষ বা নির্মাতাদের কেউই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
এই ঘটনার পর থেকেই ‘পাঞ্জাব ৯৫’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
ওটিটিই হয়ে উঠল শেষ ভরসা
ভারতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নির্মাতারা ওটিটির দিকে ঝুঁকেন। দীর্ঘ আলোচনার পর জি৫ ছবিটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তখনো একটি বড় পরিবর্তন ঘটে। ছবির নাম বদলে রাখা হয় ‘সতলুজ’। পরিচালক হানি ত্রেহান বলেন, নাম পরিবর্তন করতে হলেও ছবির মূল কনটেন্টে কোনো আপস করা হয়নি। তাঁর দাবি ছিল, দর্শক যে সংস্করণ দেখবেন, সেটিই তিনি সব সময় মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন।
দিলজিৎ–এর দৃঢ় অবস্থান
ছবির মুক্তির আগে দিলজিৎ দোসাঞ্জ একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই চলচ্চিত্র তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অভিজ্ঞতা। জসবন্ত সিং খালরার চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি শুধু একজন মানুষের জীবন নয়, একটি সময়ের মানসিক চাপও অনুভব করেছেন। তাঁর দাবি, শুটিং শেষ হওয়ার পরও চরিত্রটি থেকে বের হতে সময় লেগেছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ছিল—‘একটি দৃশ্যও যদি কাটা হতো, আমি এই ছবির প্রচার করতাম না।’

মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ধাক্কা
৩ জুলাই ২০২৬। অবশেষে জি৫-এ মুক্তি পেল ‘সতলুজ’। বহু দর্শক ছবিটি দেখতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসাও আসতে থাকে। কিন্তু ৫ জুলাই ছবিটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। প্ল্যাটফর্মটি জানায়, তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ছবিটি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। কিন্তু ঠিক কী কারণে সিনেমাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে সে বিষয়ে তারা একটি শব্দও ব্যাখ্যা করেনি। ফলে শুরু হয় জল্পনা। সরকারি কোনো নির্দেশ ছিল? আইনি জটিলতা? নাকি অন্য কোনো চাপ? এখনো পর্যন্ত এ প্রশ্নগুলোর আনুষ্ঠানিক উত্তর মেলেনি।
নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রত্যাহার
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিধির বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে দিলজিত দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’ চলচ্চিত্রটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম জি৫ থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। সরকারি সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে পাঞ্জাবের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং শীর্ষ শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শিরোমণি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি (এসজিপিসি)। অন্যদিকে অভিনেতা-গায়ক দিলজিত দোসাঞ্জ দর্শকদের উদ্দেশে বলেছেন, যেভাবেই সম্ভব ছবিটি দেখে নেওয়ার চেষ্টা করতে।
গত শুক্রবার কোনো কাটছাঁট ছাড়াই জি৫-এ মুক্তি পেয়েছিল ‘সতলুজ’। তবে রবিবার সন্ধ্যায় সেটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, ছবিটি ২০২২ সালে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ নামে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)-এর কাছে ছাড়পত্রের জন্য জমা পড়েছিল। তখন সেন্সর বোর্ড ১২৭টি কাটছাঁটের সুপারিশ করলেও নির্মাতারা তা মানতে রাজি হননি। ফলে ছবিটির মুক্তিও স্থগিত ছিল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্মাতারা প্রস্তাবিত কাটছাঁট নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরে নীরবে নতুন নাম দিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি মুক্তি দেন। ওটিটি সিবিএফসির আওতায় পড়ে না। বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর জি৫-কে ছবিটি সরিয়ে নিতে বলা হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে মধ্যস্থতাকারী (ইন্টারমিডিয়ারি) নির্দেশিকার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে বলা হয়েছে। ছবিটি যদি প্রেক্ষাগৃহ ও ওটিটি—দুই মাধ্যমেই মুক্তি দিতে হয়, তাহলে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করতেই হবে।’

ভারতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের আওতায় নয়। এগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় তথ্যপ্রযুক্তি (ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া এথিকস কোড) রুলস, ২০২১-এর তৃতীয় অংশ অনুযায়ী।
পাইরেসি না করার আহ্বান
ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সতলুজ’-এর পাইরেটেড কপি ও অবৈধ লিংক ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরপর জি৫ দর্শকদের পাইরেসি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘আমরা আশাবাদী এবং ছবিটি আবার আপনাদের কাছে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করছি। অনুগ্রহ করে পাইরেসিকে সমর্থন করবেন না।’ তবে দিলজিৎ দোসাঞ্জ ইনস্টাগ্রাম লাইভে ভিন্ন অবস্থান নেন। তিনি বলেন, যাঁরা ছবিটি ডাউনলোড করে রেখেছেন, তাঁরা যেন অন্যদেরও দেখার সুযোগ করে দেন। তাঁর ভাষায়, ‘একবার কোনো কিছু অনলাইনে চলে এলে সেটিকে আর পুরোপুরি মুছে ফেলা যায় না।’ একই সঙ্গে তিনি ছবিটির দীর্ঘ ও কঠিন মুক্তিযাত্রার কথাও স্মরণ করেন।
‘সতলুজ’ নিয়ে বিতর্ক কেনআগে থেকেই কি জানতেন দিলজিৎ
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে মুক্তির পর এক ইনস্টাগ্রাম লাইভে। দিলজিৎ দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ শনিবার। আমার মনে হচ্ছে সোমবারের মধ্যেই ছবিটা নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই দেখে ফেলুন, ডাউনলোড করে রাখুন।’ সেই সময় অনেকেই এটিকে মজার মন্তব্য বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু মাত্র দুই দিনের মধ্যেই তাঁর কথাই সত্যি হয়ে যায়।
এরপর ছবি সরিয়ে নেওয়ার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে ছবির একটি দৃশ্য পোস্ট করে লেখেন, ‘খালরার মতোই ছবিটিও বাধার মুখে পড়েছে।’
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার পর বিষয়টি শুধু চলচ্চিত্র অঙ্গনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সাবেক রাজ্যসভার সদস্য সাকেত গোখলে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ছবিটি পুনরায় মুক্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য ছিল, একজন মানবাধিকারকর্মীর জীবন ও তাঁর অনুসন্ধানের কাহিনি দর্শকের সামনে আসা উচিত। ইতিহাসের অস্বস্তিকর অধ্যায়কে চেপে রাখা সমাধান হতে পারে না।
অন্যদিকে যারা ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের যুক্তি—পাঞ্জাবের সহিংস সময়কে কেন্দ্র করে নির্মিত যেকোনো চলচ্চিত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এমন বিষয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।

দিলজিৎ দোসাঞ্জের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দিলজিৎ দোসাঞ্জ শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা নন, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতীয় শিল্পীদের অন্যতম পরিচিত মুখ। ‘অমর সিং চামকিলা’র পর ‘সতলুজ’-এ তাঁর অভিনয়কে অনেক সমালোচক ক্যারিয়ারের অন্যতম পরিণত কাজ হিসেবে দেখছেন। দিলজিৎ নিজেও বলেছেন, জসবন্ত সিং খালরার চরিত্র তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। শুটিং শেষ হওয়ার পরও সেই চরিত্র থেকে বের হতে সময় লেগেছে।
দিলজিৎ–এর এই মন্তব্য অনেকের কাছে ছবিটির প্রতি নির্মাতাদের আন্তরিকতার প্রমাণ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া
ভারতে ছবিটি খুব অল্প সময়ের জন্য স্ট্রিমিংয়ে থাকলেও যারা দেখতে পেরেছেন, তাঁদের অনেকেই পরিচালনা ও অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে পরিচালক হানি ত্রেহানকে প্রশংসা করা হয়েছে সংবেদনশীল বিষয়কে অতিনাটকীয় না করে সংযত ভঙ্গিতে তুলে ধরার জন্য।
দিলজিৎ–এর অভিনয়ও সমালোচকদের মতে, তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। অনেক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ছবিটি কোনো পক্ষের প্রচারণা নয়; বরং একজন মানুষের ন্যায়বিচারের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে








