২০২৬ বিশ্বকাপ কি লামিনে ইয়ামালের হবে? বাকি তারকাদের থেকে গোল সংখ্যায় অনেক পিছিয়ে থাকলেও, স্পেনের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দলকে আক্রমণভাগে সাহায্য করছেন, বারবার বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ে গোলে শট নিচ্ছেন, আবার নীচে নেমে রক্ষণকেও সাহায্য করছেন। শুধু গোল পাচ্ছেন না। ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পরই বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নজর দিলেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। সেমিফাইনালে জয়ের কিছুক্ষণ পরই ইনস্টাগ্রামে ম্যাচের একাধিক ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে স্প্যানিশ ভাষায় লেখেন, বাংলার যার অর্থ, ‘নিউইয়র্ক, আমরা আসছি।’মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল ডালাসে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এদিন ডিফেন্সে শুরু থেকেই খেলেন আরেক কিশোর পাও কুবারসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দলের হয়ে সেমিফাইনালে একসঙ্গে দুই কিশোর ফুটবলার প্রথম একাদশে জায়গা করে নেয়। গোটা ম্যাচে বলের দখল রেখে দারুণ নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছে লা রোজারা। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথম আবার ফাইনালে স্পেন।
ম্যাচের ২২ মিনিটে ইয়ামালের বুদ্ধিদীপ্ত প্রেসিং থেকেই স্পেন এগিয়ে যায়। পেনাল্টি পায় ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। স্পট কিক থেকে নির্ভুল শটে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবাল। গোল হজমের পরও ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে দানি ওলমোর পাস থেকে পেড্রো পোরো ফ্রান্সের গোলকিপারকে পরাস্ত করে ২-০ করে। তার কিছুক্ষণ পর ইয়ামাল নিজেও বল জালে জড়িয়েছিলেন। তবে অল্পের জন্য অফসাইড হওয়ায় সেই গোল বাতিল হয়। শেষদিকে এমবাপে এবং চুয়ামেনি কয়েকটি আক্রমণ শানালেও স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ কোনও সুযোগ দেয়নি। টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচের মধ্যে ষষ্ঠবার ক্লিনশিট ধরে রাখে স্পেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ে নামতে চলেছে। সেমিফাইনাল জয়ের পর ইয়ামালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ফাইনালে জয় ছাড়া আর কোনও লক্ষ্য নেই স্পেনের। দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই এবার নিউইয়র্কের পথে লা রোজারা।








