কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসে মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ৯৫টি ঘটনায় অন্তত ১৫ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ৪ হাজার ৩০৭ জন এবং কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬ হাজারের বেশি মানুষ।বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকায় লাখো রোহিঙ্গা ভূমিধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করে সংস্থাটি। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নতুন করে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘মানবিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি উদ্ধার অভিযান ও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। একই সঙ্গে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি আশ্রয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’ রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) তথ্যমতে, ভারী বৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ও শিক্ষাকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তথ্য মতে, বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত দেড় বছরে মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাতের কারণে নতুন করে আরও প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।টেকনাফের সাতটি আশ্রয়শিবিরে অন্তত ৩০টি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
অপরাধ
পাহাড়ধসে ১৫ রোহিঙ্গার মৃত্যু, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

শেয়ার করুন







