টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে গত দুই দিনে ১২ জন, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৫ জন এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও নগরে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।এদিকে, পাহাড়ধসে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের লাল ব্রিজ এলাকায় মাটি ও গাছ উপড়ে পড়ায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।কক্সবাজার: টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস, ঘরের দেয়াল ধসে ও পানিতে ডুবে গত দুই দিনে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজনই রোহিঙ্গা। পাহাড়ঘেরা এলাকায় বসবাসকারী প্রায় তিন লাখ মানুষ বর্তমানে পাহাড়ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর ও উখিয়ায় নতুন করে আরও দুইজনের মৃত্যু হলে জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার দরিয়ানগরের বড়ছড়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তার লিমা (২৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন আহত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।উখিয়া: বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-০৩ ব্লকে পাহাড়ধসে একটি মাদ্রাসা মাটির নিচে চাপা পড়ে। এতে ৫ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিহতরা হলো- রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।’বান্দরবান: মঙ্গলবার ও বুধবার টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের লাল ব্রিজ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়কের ওপর মাটি ও গাছ পড়ায় দূরপাল্লার বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক বিভাগ মাটি সরানোর কাজ শুরু করলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।চট্টগ্রাম: বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ধসে ১০ মাস বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা আহত হন। সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘চার দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই মাইকিং করা হয়েছিল। তবুও অনেক বাসিন্দা ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে রয়ে গেছেন। নিহত শিশুর মায়ের চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’অন্যদিকে, দুপুরে নগরের চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকায় পাহাড়ধসে সামিয়া ইসলাম (১৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।কক্সবাজারে নিহত ১২ জনের মধ্যে আটজনই রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস নিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘অবৈধ পাহাড় কাটার ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অনেক এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।’কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হবে।’কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই বর্ষা মৌসুমে আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।[TECHTARANGA-POST:10541][TECHTARANGA-POST:10537][TECHTARANGA-POST:10531][TECHTARANGA-POST:10518][TECHTARANGA-POST:10501][TECHTARANGA-POST:10544]