টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজানে ভারী বর্ষণের কারণে দেশের উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। দ্রুত বাড়ছে তিস্তাসহ আরও কয়েকটি নদীর পানি।
আজ বুধবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাসের স্বাক্ষর করা পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, দেশের উত্তর-পূর্ব, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ফলে অন্তত ১০ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে বান্দরবানের সাঙ্গু ও কক্সবাজারের মাতামুহুরি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। অন্যদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদী সতর্কসীমায় রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচল প্রদেশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংলগ্ন ভারতের উজান এলাকায় একই ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর আরও দুদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়বে।
বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু নদী এবং কক্সবাজারের লামা এলাকায় মাতামুহুরি নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে সতর্কসীমায় রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের কাউনিয়া ও গাইবান্ধার তারাপুর স্টেশনে সতর্কসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানিও সতর্কসীমা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে গোমতী, মুহুরি, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও দ্রুত বাড়তে পারে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। একই সময়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও কুপাই নদীর পানি দ্রুত বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এসব নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকায়ও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দেশের প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী কয়েক দিনে কিছুটা বাড়লেও বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি বলেছে, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি ঢলপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।








