স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নগর নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
সোমবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র (ইন্টেরিয়র) ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভীর সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মহসিন নাকভী। এ ছাড়া দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
নগর নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশটির ৪০টিরও বেশি প্রধান শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব, বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির ‘সেফ সিটি’ মডেল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শহরগুলোকে আরও নিরাপদ করতে পাকিস্তান কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দিতে পারে।
এ ছাড়া বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও দক্ষতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জটিল বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটে দুই দেশের নিবিড় পরামর্শ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দুই দেশের সীমান্ত ও সমাজ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ইতিহাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ প্রত্যয়ী।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতির পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় জনগণের যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টিও উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেনটিটি কার্ড পেতে জটিলতায় পড়ছেন। এর ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি পাকিস্তানের মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে ফিরিয়ে নেয়, সে জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো ও ধারাবাহিক সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ বলেও বৈঠকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান সৈয়দ মহসিন নাকভী।








