নাটোরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের জালিয়াতি ও প্রতারণায় চলতি এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা আট শিক্ষার্থীর পরবর্তী সব পরীক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। ফরম পূরণ সম্পন্ন না হওয়া এ আট শিক্ষার্থীর হাতে গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যার মধ্যে তাদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান। ফলে তারা আজ (শনিবার) বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। বাদ পড়া প্রথম দিনের পরীক্ষার বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড পরে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি জানান। এদিকে কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে কলেজের পরীক্ষাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, মো. শিমুল শেখ, মো. আকিবুল, মো. শিমুল, মো. শাওন, মো. সাব্বির ও মো. তানভীর হোসেন যৌথভাবে কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, অনলাইনে ফরম পূরণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ১২ মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য তারা সাড়ে তিন হাজার টাকা করে অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারের হাতে দেন। ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে অমিত তাদের জানান। পরীক্ষার আগে কলেজে এসে তারা জানতে পারেন ফরম পূরণ হয়নি তাই তাদের প্রবেশপত্র আসেনি। এ সময় কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিষয়টি জানামাত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে শিক্ষামন্ত্রীর নজরে এলে তার ব্যক্তিগত সহকারী রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে এসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য আহ্বান জানান। শুক্রবার ছুটির দিনের মধ্যেই রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ফরম পূরণ সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র ইস্যু করেন। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইফফাত জেরিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে পরীক্ষার আগের দিন থেকেই অভিযুক্ত অফিস সহকারী কলেজে অনুপস্থিত এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।