শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখেও বুধবার (১৫ জুলাই) দেশের ৫৯ জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুধু চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলায় পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।
এদিন সাধারণ ৮টি শিক্ষা বোর্ডে তিনটি বিষয় এবং মাদরাসা ও কারিগরিতে একটি করে মোট পাঁচ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সকাল ১০টায় এসব পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
আরও পড়ুন
১০ ঘণ্টা পর আন্দোলন স্থগিত, মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ‘অনড়’
এদিকে, পরীক্ষা শেষে আজ ঢাকাসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। ঢাকার শিক্ষার্থীরা কয়েকটি স্পটে জড়ো হয়ে সেখান থেকে লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মসূচি করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা ঢাকার উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব ও মগবাজার এলাকায় অবস্থান নেবেন। পরে লং মার্চ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
আজ যেসব বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে
সময়সূচি অনুযায়ী- দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে (চট্টগ্রাম বাদে) এদিন পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রামের ৫ জেলা বাদে ৫৯ জেলায় আলিম পরীক্ষা হবে। আলিমে বুধবার আরবি সাহিত্য দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৫৯ জেলায় ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
গত ১৩ জুলাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে চট্টগ্রামের ৫ জেলা বাদে সারাদেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে অনেক কেন্দ্রে কোমরপানি পেরিয়ে পরীক্ষার্থীদের যেতে দেখা যায়।
পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথপোকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রে প্রশ্নপত্র ভুল থাকা নিয়েও বিতর্ক ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরীক্ষার্থীরা।
এরপর তারা ৮ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন। পরে সেটা ৩ দফা দাবিতে পরিণত হয়। তাতে বলা হয়, উপযোগী পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে; পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে সম্পূর্ণ নম্বর দিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী দুঃখপ্রকাশ করেন। একই সঙ্গে গত সোমবারের পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্র পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। তারপরও শিক্ষার্থীরা শান্ত হননি। তারা এখন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনড় রয়েছেন। এ দাবিতে ফের কর্মসূচি দিয়েছেন।
এএএইচ/এমআরএম







