আপনি কি নতুন ওষুধ আবিষ্কার, জিনগত রোগের সমাধান কিংবা ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে বিশ্বকে বদলে দিতে চান? যদি এমন স্বপ্ন থাকে, তাহলে ফার্মেসি ও বায়োটেকনোলজি হতে পারে আপনার জন্য সম্ভাবনাময় দুটি বিষয়।

ভাবুন, এমন একটি গবেষণাগারে কাজ করছেন, যেখানে উদ্ভাবিত হচ্ছে নতুন ওষুধ। গবেষণা চলছে জিনগত রোগের চিকিৎসা নিয়ে। কিংবা ক্যানসারের বিরুদ্ধে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি।

ফার্মেসি ও বায়োটেকনোলজিতে পড়াশোনা বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবকল্যাণে অবদান রাখার একটি বড় সুযোগ। এই দুটি বিষয়ে পড়াশোনা করে দেশে বিশ্বমানের গবেষণায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ওষুধশিল্পেও কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই এইচএসসি-পরবর্তী সঠিক সিদ্ধান্তই গড়ে দিতে পারে আপনার ভবিষ্যৎ।

বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়েই ফার্মেসি ও বায়োটেকনোলজিতে স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

এই দুটি বিষয়ে পড়তে হলে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হতে হবে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফলের পাশাপাশি রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে শক্ত ভিত্তি প্রত্যাশা করা হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০ চাওয়া হয়, যদিও এই শর্ত প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোথাও কোথাও গণিতেও ভালো ফল বাধ্যতামূলক।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বা বায়োটেকনোলজিতে ভর্তি হতে সবচেয়ে বড় ভরসা হবে পাঠ্যবই। জীববিজ্ঞান ও রসায়নের প্রতিটি অধ্যায়ের তাত্ত্বিক অংশ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের সূত্র নিয়মিত অনুশীলন করলে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অন্তত ১০ বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন বোঝা সহজ হবে এবং নিজের প্রস্তুতিও যাচাই করা যাবে।

বিশ্বজুড়ে ফার্মেসি ও বায়োটেকনোলজির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, ক্যানসার গবেষণা, ভ্যাকসিন উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ড্রাগ ডিসকভারিতে ব্যাপক বিনিয়োগ হচ্ছে। ইউরোপে রয়েছে অসংখ্য বায়োটেক স্টার্টআপ ও বিশ্বখ্যাত ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান। দক্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, হেলথ ডেটা অ্যানালাইটিকস এবং গবেষণাভিত্তিক উচ্চ শিক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ ও স্পনসরশিপ ভিসার সুযোগ।

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার পরিকল্পনা থাকলে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে স্নাতক পর্যায় থেকেই। ভালো সিজিপিএ ধরে রাখুন। ৪-এর মধ্যে অন্তত ৩.৫০ সিজিপিএ থাকলে স্কলারশিপের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা যায়। ইংরেজি ভাষার দক্ষতাও বাড়াতে হবে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএসে ৬.৫ থেকে ৭.০ স্কোর প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে জিআরই স্কোরও লাগতে পারে।

শুধু ক্লাসে ভালো ফল করলেই হবে না। শিক্ষকদের সঙ্গে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। আন্তর্জাতিক কোনো জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে পারলে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। পাশাপাশি সময় থাকতেই একটি মানসম্মত সিভি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) এবং শিক্ষকদের সুপারিশপত্র প্রস্তুত করে রাখুন।