ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ইউরোপের দেশ পর্তুগালে পাড়ি জমাচ্ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। কিন্তু প্রবাস জীবনের অনিশ্চিত যাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো মৃত্যু ঘটলে পরবর্তী করণীয়, দাফন প্রক্রিয়া কিংবা মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি ধাপগুলো জানা থাকলে পরিবার বা পরিচিতদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যায়।

পর্তুগালে অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালগুলোতেই ঘটে থাকে। কোনো প্রবাসী মারা গেলে স্বজন বা পরিচিতদের তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত ছাড়পত্র এবং মৃত ব্যক্তির ছাড়পত্র (পাসপোর্ট) বা বসবাস অনুমোদনের কপি নিয়ে সরাসরি অনুমোদিত সৎকার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।

পর্তুগালে বাংলাদেশিদের জন্য মূলত সেবা দিয়ে থাকে এমন দুটি সংস্থা হলো ফুনারারিয়া কাপুচোস: +৩৫১ ২১৮ ৮৫১ ৭৫০ রুয়া সোলা সান্তানা, ১১৫০-৩৪৩, লিসবন— মার্তি মনিজের কাছে। ফুনারারিয়া আলমেদা: +৩৫১ ৯১৭ ৬৫১ ৭০৪।

সৎকার সংস্থা হাসপাতাল থেকে মৃত্যু সনদ সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় মসজিদে পাঠায় মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় অনুমোদনের জন্য। কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে প্রতিনিধি ও ইমাম দাফনের স্থান ও সময় সমন্বয় করেন।

আরও পড়ুন

বৃদ্ধ মা-বাবার বড় ওষুধ সন্তানের একটি ফোনকল

পর্তুগালে মুসলমানদের দাফনের জন্য নির্ধারিত স্থান হলো সেমিতেরিও দ্য কার্নিদে। রুয়া রিও জেজেরে, ১৬০০-৭৫৫। সংস্থা হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে আসে এবং সেখানে স্বজন বা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক গোসল ও কাফন সম্পন্ন করে কফিনে রাখা হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

কফিনের মান ও অন্যান্য সেবার ওপর ভিত্তি করে দাফন খরচ নির্ধারিত হয়। সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে ৩৫০ থেকে ৫৫০ ইউরো এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৭০০ ইউরো খরচ পড়ে।

যিনি এই দাফন খরচ বহন করবেন, তিনি পরবর্তীতে পর্তুগালের সামাজিক নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘দাফন খরচ পুনর্বহন’ (রেইমবোলসো দ্য দেসপেসাস দ্য ফুনারাল)-এর আবেদন করে এই অর্থ ফেরত পেতে পারেন।

আবেদন ফরম, মৃত্যু সনদ, সৎকার সংস্থার দেওয়া মূল খরচের রসিদ এবং মৃত ব্যক্তি ও অর্থ প্রদানকারীর ছাড়পত্র বা বসবাস অনুমোদনের কপি। এসব নথি নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সময়ের ভিত্তিতে জমা দিলে সরকার খরচ পরিশোধ করে দেয়।

পরিবার বা স্বজনরা যদি মরদেহ পর্তুগাল থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চান, তবে নিচের আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা হয়। আইনি অনাপত্তি ও নথি সংগ্রহ।

সংস্থা হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে পর্তুগাল নিবন্ধন কার্যালয় থেকে মৃত্যু নিবন্ধিত করায় এবং লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করে।

সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে সংস্থা বিমানসংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ পরিবহনের জন্য টিকিট বুক করে। এরপর হাসপাতাল থেকে মরদেহ সংস্থায় এনে স্বজনদের মাধ্যমে গোসল ও কাফন শেষে সংস্থার নিজস্ব স্থান বা কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা সম্পন্ন করা হয়। পরে সংস্থার বিশেষ গাড়িতে করে বিমানবন্দরে নিয়ে নির্ধারিত বিমানে মরদেহ তুলে দেওয়া হয়।

মৃত্যুর পর থেকে ফ্লাইটে ওঠা পর্যন্ত মোট ৫ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। বিমানের টিকিট, কফিন, বিশেষ পরিবহন সেবা, কাফনের কাপড় ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া মিলিয়ে মোট খরচ পড়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ০০০ ইউরো।

মৃত ব্যক্তি বা তার পরিবারের পক্ষে যদি এই খরচ বহন করা সম্ভব না হয়, তবে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা ও বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এমআরএম